—ফাইল চিত্র।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা কোনও রকম হিংসাত্মক ঘটনায় যাতে জড়িয়ে না পড়েন, তার জন্য তাঁদের বার বার সতর্ক করা হয়েছিল। যদিও বাস্তবে দেখা গেল, সোমবার নিরঙ্কুশ জয়লাভ করার পরে রাত থেকেই কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলতা নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছেন সেই নেতারাই। গোটা হাওড়া শহর জুড়ে তৃণমূলের একের পর এক কার্যালয় দখল এবং সেখানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি উঠেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোটরবাইক বাহিনীর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে হাওড়া পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র পারিষদকে বেধড়ক মারধরের ঘটনা। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির বিজেপি সমর্থকদের দিকে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তাঁদের সমর্থকেরা কোনও ভাবেই এমন ঘটনায় জড়িত নন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুরে মধ্য হাওড়ার রামজি হাজরা লেনে একটি পার্ক দখল করে সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নামে একটি মন্দিরের শিলান্যাস করেন বিজেপির কয়েকশো কর্মী। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাচক্রে, সেই সময়ে ওই এলাকা দিয়েই দলের এক কর্মীর সঙ্গে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ শ্যামল মিত্র।
অভিযোগ, ওই পুরকর্তার রাস্তা আটকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে ১০-১২ জন বিজেপি সমর্থক। গুরুতর আহত হন শ্যামল ও তাঁর সঙ্গী। এই ঘটনার পর থেকে ওই ওয়ার্ডের সব তৃণমূল কর্মী-সমর্থক আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাক্তন মেয়র পারিষদকে মারধরের ঘটনা প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দেবাঞ্জল চট্টোপাধ্যায় ও শিবশঙ্কর সাধুখাঁ বলেন, ‘‘শ্যামল মিত্রের লোকজন গত ১৫ বছর ধরে ওই পার্কটি দখল করে রেখেছিল। আমরা পার্কটি খুলে দিয়ে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে একটি মন্দিরের শিলান্যাস করেছি। শ্যামলকে কারা মেরেছে, আমরা জানি না।’’
এ দিনের ঘটনাই শুধু নয়। সোমবার রাতে লিলুয়ায় তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে হামলা চালানোর পাশাপাশি বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্রের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। দখল করা হয় লিলুয়ার বি রোড ও সি রোডে তৃণমূলের অন্তত ২০টি কার্যালয়। একই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তর হাওড়া, দক্ষিণ হাওড়া, শিবপুর ও দাশনগরে।
যদিও তৃণমূলের কার্যালয় দখল ও সেখানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এই ধরনের আচরণ করতে কর্মীদের নিষেধ করা হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো নই। তবে শুনছি, তৃণমূলের লোকেরাই বিজেপি সেজে এমন ঘটাচ্ছে।’’