West Bengal Election 2026

উত্তম-রামেন্দুকে এক সঙ্গে কাজের নির্দেশ দলনেত্রীর

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩
নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে তারকেশ্বরের পূর্ব রামনগরে বিবেকানন্দ

নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে তারকেশ্বরের পূর্ব রামনগরে বিবেকানন্দ সেবাকেন্দ্র স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে। ছবি: দীপঙ্কর দে

তারকেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়ের সঙ্গে পুরপ্রধান উত্তম কুন্ডুর ‘বিরোধ’ বহুচর্চিত। রবিবার এই কেন্দ্রে প্রচারে এসে দু’জনকে মিলেমিশে কাজের নির্দেশ দিয়ে গেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’জনেই বলেছেন, নেত্রীর নির্দেশ শিরোধার্য।

উত্তমের দাবি, তাঁদের বিরোধের কথা সংবাদমাধ্যমের বানানো। তৃণমূল শিবিরের খবর, টিকিট না পেয়ে অসন্তষ্ট উত্তমকে গত ২৯ মার্চ ফোন করে প্রচারে নামতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার তারকেশ্বরের পূর্ব রামনগরে সভায় সিঙ্গুরের প্রার্থী বেচারাম মান্না, হরিপালের প্রার্থী করবী মান্নাও ছিলেন। মঞ্চে উঠেই রামেন্দুর সঙ্গে উত্তমের হাত মিলিয়ে দেন মমতা। বক্তৃতার শেষ দিকে বলেন, ‘‘সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারও কোনও ‘ইগো’ দেখতে চাই না। রামেন্দু, উত্তম একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ কথা আর যেন বলতে না হয়।’’ এর পরেই রামেন্দু এবং উত্তমকে কিছু বলতে দেখা যায় তাঁকে।

রামেন্দু বলেন, ‘‘দিদি দু’জনকে এক সঙ্গে প্রচার করতে বলেছেন। তারকেশ্বর শহরে কিছুটা ঘাটতি ছিল। বিষয়টি দিদিমণির কানে গিয়েছিল, তাই বলেছেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমার দিক থেকে কোনও সমস্যা নেই। রাতেই শহর নেতৃত্বকে নিয়ে বসব। উনিও (উত্তম) আসবেন বলেছেন।’’ উত্তমের বক্তব্য, ‘‘আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা বা মান-অভিমান বলে কিছু নেই।’’

এ নিয়ে বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের কটাক্ষ, ‘‘ভরা মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কথাগুলো বলতে হচ্ছে কেন? উনি বুঝেই নিয়েছেন, তারকেশ্বরে তৃণমূল হারছে। পাঁচ বছরে কী করেছেন?’’

তারকেশ্বরে প্রচুর আলু ফলে। এ বার অতিফলনে দাম না মেলায় চাষিদের হাহাকার আছে। বক্তব্যের শুরুতে মমতা ফের আলুচাষিদের পাশে থাকার বার্তা দেন। জানান, আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আলুবীজ বাইরে থেকে কেনার প্রয়োজন নেই। ছোট আলুর জন্য হিমঘরে ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত আছে। বাইরের রাজ্যে আলু বিক্রিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। আলু পচে গেলে গেলে, পোকায় কেটে দিলে চাষিরা ফসল বিমা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। বাম আমলে আলুর বিপণন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে রাজ্য কৃষকসভার সভাপতি ভক্তরাম পানের প্রতিক্রিয়া, ‘‘সেই পুরনো ক্যাসেট বাজাচ্ছেন। মিথ্যা বলছেন। আমাদের সময়ে ভিন্‌ রাজ্যে আলু যেত। বামফ্রন্ট যা করেছে, উনি করতে পারেননি।’’ সন্তুর বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা বলছেন। আলুবীজ কোথায় তৈরি করছেন? বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানো উনিই তো আটকে রেখেছিলেন। মাঠে আলু পচে যাচ্ছে।’’

আরও পড়ুন