আইএএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসে ‘অধিকার সমাবেশ’। শহিদ মিনার ময়দানে। — নিজস্ব চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে বিধানসভা ভোটের আগে বামেদের উদ্দেশে জোটের বার্তা দিয়ে রাখলেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) চেয়ারম্যান নওসাদ সিদ্দিকী। দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আইএসএফের সমাবেশে শহিদ মিনার ময়দান উপচে ভিড় হয়েছিল। যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস-সহ নানা দলের!
বিধানসভা ভোটে আসন-রফা নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে আলোচনা চলছে আইএসএফের। পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা আগামী ২৩ জানুয়ারি। তারই মধ্যে শহিদ মিনারের ময়দান থেকে বুধবার নওসাদ বলেছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীরা চাইছেন ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে দিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন আমাদের আতঙ্কিত করে রাখতে! এসআইআর-এর সময়ে যে সহায়তা পেলে দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক দূর হত, সেই কাজ ওঁদের সরকার করছে না। সংখ্যালঘুরা ওঁদের কাছে শুধুই ভোট-ব্যাঙ্ক, আর বিজেপির কাছে আমরা অবাঞ্ছিত! দেশে থাকারই অধিকার নেই! এদের শিক্ষা দিতে হবে ২০২৬ সালে। সব আসনে খাম চিহ্ন (আইএসএফের প্রতীক) হয়তো থাকবে না। যেখানে খাম থাকবে না, সেখানে কোথায় বোতাম টিপবেন, আমাদের নেতৃত্ব পরে বলে দেবেন।’’ রাজ্যে ২০২১ সালে শুধু ভাঙড় ছাড়াও ‘সংযুক্ত মোর্চা’কে (বাম-আইএসএফের জোট, বাইরে থেকে কংগ্রেস) আরও আসনে সুযোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গে মেরুকরণের রাজনীতি এমন ভাবে চেপে বসত না বলে মন্তব্য করেছেন নওসাদ। রাজ্যে ভুয়ো তফসিলি জাতি ও জনজাতি, ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে, তার ফলে প্রকৃত দলিত, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘুরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তোপ দাগা হয়েছে আইএসএফের সমাবেশ থেকে। কংগ্রেসের মালদহ-মুর্শিদাবাদের নেতারা এখনও আইএসএফের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধী। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ থেকে এ দিন লোক এনেছে আইএসএফ।
পাশাপাশিই নওসাদের মন্তব্য, ‘‘ওয়াকফ মানব না বলে তৃণমূলের সরকার এক রাতে সে আইন মেনে নিয়েছে! প্রাণ থাকতে এসআইআর হতে দেব না বলে পরে সরে এসছে, আরও পরে কী করবে, কোনও ঠিক নেই! নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে।’’ আইএসএফের সমাবেশ-মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বি আর অম্বেডকরের নাতি ও দলিত আন্দোলনের নেতা প্রকাশ অম্বেডকর।
আইএসএফ শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় সঙ্গী হবে ধরে নিয়েই বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিএম। তবে কংগ্রেস কী করবে, সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তাদের কাছে নেই। সূত্রের খবর, এমতাবস্থায় এ দিন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআই এবং আরএসপি-র সঙ্গে সিপিএমের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতায় আগ্রহী হলে ২০২১ সালের রফা-সূত্রকেই মোটের উপরে ভিত্তি ধরে কথা শুরু হবে। আর কংগ্রেস না-এলে তখন বাম শরিকদের জন্য বরাদ্দ আসন কিছু বাড়তে পারে। আইএসএফের বার্তার প্রেক্ষিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলের মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই আমাদের লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে, হিন্দু মহাসভা বা মুসলিম লিগ, যারাই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এখানে রাজনীতি করতে চেয়েছে, তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’’