— প্রতীকী চিত্র।
এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল। সেই সঙ্গে, অভিযুক্তদের কথা মতো বাড়ি খালি না করলে সেটি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বেলেঘাটা থানায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও প্রোমোটার রাজু নস্কর এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি। পাল্টা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও বুধবার মহিলারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেজানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে প্রোমোটিং সংক্রান্ত ঝামেলা, হুমকি, মারধর-সহ একাধিক ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে ওই তৃণমূল নেতার দিকে।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম সুকোমল দেবনাথ। তিনি বেলেঘাটা মেন রোডের বাসিন্দা। টিনের ছাউনির একটি ঘরে মাকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। আক্রান্ত সুকোমল জানান, প্রায় ৭৫ বছর ধরে তাঁরা এই বাড়িতে ভাড়া রয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের এই ভাড়া বাড়িটি ছেড়ে দিতে চাপ আসছে। সেখানে প্রোমোটিং করা হবে বলে রাজু ও তাঁর দলবল চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকি, রাতের অন্ধকারে এসে হুমকিও দেওয়া হয়েছে একাধিক বার। কিন্তু কোনও ভাবেই সুকোমল বাড়ি ছাড়তে রাজি হননি। লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজুর দলবল তাঁর বাড়িতে আসে। কথা বলার জন্য তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, এর পরে রাজুর বেলেঘাটার অফিস সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে বাড়ি খালি করার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে। তিনি রাজি না হওয়ায় সেখানেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরে তাঁর মাথায়, চোখে এবং কানের কাছে আঘাত লাগে।
এর পরেই আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বেলেঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ায় বুধবার অভিযুক্তেরা সুকোমলের বাড়িতে মহিলাদের পাঠিয়ে হেনস্থা করে। এমনকি, হেনস্থা করা হয় তাঁর বয়স্ক মাকেও। এ ক্ষেত্রেও গোটা ঘটনার পিছনে তৃণমূল নেতা রাজুর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। সুকোমল বলেন, ‘‘আমি অভিযোগ তুলে না নেওয়ায় বাড়িতে মহিলাদের পাঠিয়ে আমায় হেনস্থা করা হচ্ছে। ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার ঘরে তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানি না, কী ভাবে এখানে বসবাস করব।’’
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজু। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত নই। ওই ব্যক্তিকে আমি চিনিই না। একটা পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা, এটুকুই শুনেছি।’’ বেলেঘাটা থানার পুলিশ যদিও দু’পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।