Abhishek Banerjee CID

কলকাতায় ফিরে কালীঘাটের বাড়িতে গেলেন অভিষেক! আদালতের নির্দেশ মেনে ৬টার মধ্যে যাবেন ভবানী ভবনে?

সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিষেককে সিআইডি-র দফতরে হাজির হতে হবে। কলকাতা হাই কোর্ট তেমনই নির্দেশ দিয়েছে। অভিষেক বিমানবন্দর থেকে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরেছেন। এর পর যেতে পারেন ভবানী ভবনে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৬:৩৭
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দেবেন সিআইডি দফতরে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দেবেন সিআইডি দফতরে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে বিমানবন্দরে নেমেছেন তিনি। কিছু না বলেই গাড়িতে ওঠেন। বিকেল পৌনে ৫টার মধ্যে কালীঘাটের বাড়িতে ঢুকে গিয়েছেন অভিষেক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি-র দফতরে হাজির হতে হবে। কলকাতা হাই কোর্ট তেমনই নির্দেশ দিয়েছে। সময়ের মধ্যে তিনি ভবানী ভবনে পৌঁছোন কি না, সেটাই দেখার।

Advertisement
ভবানী ভবনের সামনে বাড়তি নিরাপত্তা। বৃহস্পতিবার বিকেলে।

ভবানী ভবনের সামনে বাড়তি নিরাপত্তা। বৃহস্পতিবার বিকেলে। —নিজস্ব চিত্র।

হাই কোর্ট অভিষেককে হাজিরার নির্দেশ দেওয়ার পরেই বিকেলে ভবানী ভবনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছেন সিআইডি কর্তৃপক্ষ। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দফতরের সামনে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। রয়েছে র‌্যাফ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাখা হয়েছে কাঁদানে গ্যাসও। অভিষেক পৌঁছোলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। এর আগে একাধিক বার তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন। কখনও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েছেন, কখনও রাজনৈতিক কারণে শহরের বাইরে চলে গিয়েছেন। এর মধ্যে সিআইডি গ্রেফতার করতে পারে আশঙ্কা করে অভিষেক কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছিলেন আদালতে। বৃহস্পতিবার অভিষেকের সেই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। হাই কোর্ট অভিষেককে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সিআইডি দফতরে যেতে বলেছে। আদালতের নির্দেশ, অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। দু’সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি।

সিআইডি দফতরে হাজিরার দিনেই দলের অন্দরে অভিষেককে নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে। তাঁর ‘ঔদ্ধত্যের’ বিরোধিতা করে অভিষেকের মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, অভিষেক থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। মমতাকে তাঁর এবং অভিষেকের মধ্যে থেকে যে কোনও এক জনকে বেছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মমতা কী করবেন, অভিষেক নিজে কী করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।

বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে অনেকের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। কারও কারও নাম লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে! সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। নোটিসও ধরানো হয় অভিষেককে। কিন্তু তিনি এক বারও হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর অভিষেককে দেখে কেউ কেউ ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। অভিষেক নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। ইতিমধ্যে সইকাণ্ডের তদন্ত করতে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।

তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভেঙে গিয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৯ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি তিনি স্পিকারের হাতে তুলে দেন। তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয় ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। তাঁরা দাবি করেছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। মমতাকে তাঁরা পরামর্শদাতা হিসাবে থাকার অনুরোধও জানিয়েছেন। এর পর লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন দেখা দেয়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে অন্তত ২০ জন সাংসদের সই রয়েছে বলে দাবি। এ ছাড়া, রাজ্যসভা থেকে তৃণমূলের তিন জন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। সেখানেও শক্তি কমেছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন শাসকদলের।

Advertisement
আরও পড়ুন