— প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে গিগ (অ্যাপ-নির্ভর সংস্থায় কর্মরত) কর্মীদের ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন করার ঘোষণা হয়েছে সম্প্রতি। এই রাজ্যের যে কোনও বাজেটে গিগ কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবনার উদাহরণ এটাই প্রথম। সূত্রের খবর, বাজেট পেশের ১০ দিনের মধ্যে ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। যদিও গিগ কর্মীদের বড় অংশেরই দাবি, বোর্ড গঠনের আগে এ রাজ্যে কত জন গিগ কর্মী আছেন, সেই সংখ্যা চিহ্নিত করা দরকার। কিন্তু কোনও অ্যাপ-নির্ভর সংস্থাই সরকারকে নিজস্ব তথ্য দিতে না চাওয়ায় অতীতেও এমন কর্মীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অতীতের নানা আশ্বাসের মতো বাজেটের এই ঘোষণাও স্রেফ মুখের কথা হয়েই থেকে যাবে না তো?
গিগ কর্মীদের সংগঠন ‘ডেলিভারি ভয়েসেস’-এর সদস্য প্রিয়স্মিতা বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারও একাধিক বার গিগ কর্মীদের ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরির কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। যাঁদের কল্যাণ করার ভাবনা থেকে এই বোর্ড তৈরির কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা সংখ্যায় ঠিক কত জন, সেই তথ্যই তো সরকারের কাছে নেই!’’ আর একটি গিগ কর্মী সংগঠনের এক সদস্যের আবার দাবি, কোনও অ্যাপ-নির্ভর সংস্থাই নিজস্ব তথ্যভান্ডার সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় না। কারণ, অ্যাপের মাধ্যমে ‘অ্যালগরিদম’ নির্ভর পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট গিগ কর্মী যেমন কাজ পান, গ্রাহকও তাঁর বরাত দেন। পুরো বিষয়টি খোলাখুলি সরকারের সামনে তুলে ধরলে গিগ কর্মীদের বেতনের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে যে বঞ্চনার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।
এই প্রসঙ্গে একটি অ্যাপ-নির্ভর সংস্থার ডেলিভারি কর্মীর বক্তব্য, ‘‘আমাদের নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই। কিসের ভিত্তিতে আমাদের পারিশ্রমিক ঠিক হয়, সেই ধোঁয়াশা কাটাতে সরকার অ্যাপের পিছনে অ্যালগরিদমের নামে কী চলে, সেটা জানুক। এই দাবিও দীর্ঘদিনের। কিন্তু কখনওই কিছু হয় না। ফলে ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরির আশ্বাসও পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না।’’
রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী শ্রম এবং নগরোন্নয়ন দফতরকে যৌথ ভাবে গিগ কর্মীদের ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরির রূপরেখা স্থির করতে বলা হয়েছে। ফলে, ঠিক কত জন এ রাজ্যে গিগ কর্মী হিসাবে কাজ করছেন, সেই তথ্য প্রয়োজন। এ নিয়ে শ্রম দফতর বিভিন্ন অ্যাপ-নির্ভর সংস্থার সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে বসতে চলেছে বলে খবর। প্রস্তাবিত ওয়েলফেয়ার বোর্ডে গিগ কর্মীদের প্রতিনিধিদেরও রাখার কথা। এ জন্য একাধিক গিগ কর্মী সংগঠনের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে।
গিগ কর্মী সংগঠনের সদস্যদের দাবি, তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, গিগ কর্মীদের জন্য একটি তহবিল থাকা প্রয়োজন। মাসে নির্দিষ্ট একটি টাকা গিগ কর্মী দেবেন, বাকিটা সরকার দেবে। সেই তহবিল থেকে মাতৃত্বকালীন খরচ, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গুরুতর জখম হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়লে সাহায্যও যাতে দেওয়া যায়, সেটা দেখা প্রয়োজন। যদিও গিগ কর্মীদের বড় অংশেরই দাবি, এ জন্য গিগ কর্মীদের শ্রমিক হিসাবে মান্যতা দেওয়া দরকার। যা দিতে রাজি নন কোনও সংস্থার কর্তাই। ফলে কর্নাটক ও রাজস্থানের মতো গিগ কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট আইন এ রাজ্যেও পাশ করানোর দাবি তুলছেন তাঁরা।