শুক্রবারের ভূমিকম্পে ফাটল ধরেছে বেহালা পর্ণশ্রীর সাগর মান্না রোডে। ফাইল ছবি।
শুক্রবারের ভূমিকম্পের জেরে কলকাতা পুরসভার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বেহালা পর্ণশ্রীর সাগর মান্না রোডের একটি অংশে বড়সড় ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়ে পুর প্রশাসন। কারণ, ভূমিকম্পের মাত্র একদিন আগেই ওই রাস্তাটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নামে কলকাতা পুরসভা।
পুরসভার রাস্তা বিভাগের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, ভূমিকম্পের অভিঘাতে রাস্তার গভীরে ক্ষতি হয়েছে। ফলে আপাতত শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ বা সামান্য মেরামতি করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সেই কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই রাস্তা নতুন করে তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের চালু করা ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় সাগর মান্না রোডের এই রাস্তা নতুন করে নির্মাণের প্রস্তাব আগেই পুরসভার কাছে জমা পড়েছিল। সেই অনুযায়ী কাজও সম্পন্ন হয়। কিন্তু ভূমিকম্পের ধাক্কায় রাস্তার উপরিভাগে ফাটল দেখা দেওয়ায় পুর প্রশাসন নতুন করে পরিকল্পনা করতে বাধ্য হয়।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, আপাতত ফাটল ধরা অংশ বালি ও জল দিয়ে পূরণ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হল রাস্তার গভীরে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা ভরাট করে ভিত মজবুত করা। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করা হবে ভিত যথেষ্ট স্থিতিশীল হয়েছে কি না। সব দিক সন্তোষজনক হলে তবেই রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। কারণ, তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ধাপে ধাপে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ১৪ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারপার্সন সংহিতা দাস বলেন, “আমি নিজে ওই রাস্তাটির অবস্থা দেখে এসেছি। আমরা চাইছি রাস্তাটি নতুন করে তৈরি করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনও দুর্যোগে আর ক্ষতি না হয়। সব দিক বিবেচনা করেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”
ওই রাস্তাটির পাশে একটি পুকুর রয়েছে। তাই নতুন করে রাস্তার নির্মাণের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টিকেও মাথায় রাখছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। তবে নতুন রাস্তার এহেন ফাটল প্রসঙ্গে পুর প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যেমন প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রতিক নির্মাণের মান নিয়ে, তেমনই ভবিষ্যতে টেকসই পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।