ভোটের আগে শহরের রাস্তার হাল ফেরাতে তৎপর পুরসভা। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহরের রাস্তাঘাট নিয়ে আমজনতার যাবতীয় অভিযোগ মেটাতে তৎপর কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি মেয়র পরিষদের বৈঠকে মোট ২৮টি রাস্তা মেরামতির কাজে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুর প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৪টির বেশি ওয়ার্ডে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এগিয়ে গিয়েছিল। ভোট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পুর পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষই শহরের ভোটারদের একাংশকে বিরোধীদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিধানসভা ভোটের আগে নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে সক্রিয় হয়েছে পুরসভা। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, রাস্তা সারানোর সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক নেই।
রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে বহু এলাকায়। সেই সমস্যার সমাধান করতেই একযোগে একাধিক রাস্তা মেরামতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুর প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে পুরসভার রাস্তা বিভাগের এক আধিকারিক ভোটের সঙ্গে রাস্তা সারাইয়ের বিষয়টিকে যুক্ত করতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বড় মাপের জলপ্রকল্পের পাইপলাইন পাতার কাজ হয়েছে। তার ফলে বহু রাস্তার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আংশিক মেরামত সম্ভব নয়, কার্যত গোটা রাস্তাই নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে।
পুর প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার ৭, ১০, ১১ ও ১৩ নম্বর বরোর আওতাভুক্ত অন্তত ২৫টি রাস্তা জলপ্রকল্পের পাইপলাইন পাতার কারণে নতুন করে নির্মাণ করতে হচ্ছে। বাকি তিনটি রাস্তা ‘পথশ্রী’-সহ অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় মেরামত করা হবে। যাদবপুর ও টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত বাঘাযতীন, পাটুলি, কসবা, ই এম বাইপাস, হালতু, রামলাল বাজার, গড়ফা, বেহালা ও ঠাকুরপুকুরের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। বহু জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ির পর রাস্তা দীর্ঘদিন অপরিষ্কার ও খানাখন্দে ভরা থাকায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছিল।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শহরে মোট প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার জুড়ে পাইপলাইন পাতার কাজ শেষ হলে প্রায় ৭০টি রাস্তা নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তার মধ্যে আপাতত ২৫টির কাজ চলছে। বাকি রাস্তাগুলির ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে টেন্ডার ডেকে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নাগরিকদের একাংশের মতে, ভোট আসন্ন বলেই প্রশাসনের এই তৎপরতা। যদিও পুরকর্তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত প্রয়োজনের ভিত্তিতেই নেওয়া সিদ্ধান্ত। রাস্তা সারাইয়ের এই উদ্যোগ শহরবাসীর ক্ষোভ কতটা প্রশমিত করতে পারে, তা সময়ই বলবে।