Dead Body Recovered

শৌচাগারে দগ্ধ দেহ নবতিপর বৃদ্ধার, সন্দেহ আত্মহত্যা

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বৃদ্ধার চার ছেলে। বড় ছেলে নন্দলাল সাউ ব্রহ্মপুরেই থাকেন। বাকিরা থাকেন দিল্লি, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এবং বিহারের নালন্দায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৮:২০
শিবরানি দেবী।

শিবরানি দেবী। ফাইল চিত্র।

৯০ বছরের এক বৃদ্ধার অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার ব্রহ্মপুরের ঋষি রাজনারায়ণ রোডের ছোট সর্দারপাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম শিবরানি দেবী। এ দিন ভোরে নিজের বাড়ির শৌচাগারেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় শিবরানিকে দেখতে পান তাঁর পরিবারের লোকজন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, ওই বৃদ্ধা আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই নানা অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি দেশলাই বাক্সও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এত বেশি বয়সে আত্মহত্যার ঘটনা বিরল। তাই শিবরানি আত্মঘাতী হয়ে থাকলে কেন তিনি এমন পদক্ষেপ করলেন, সেই বিষয়টি ভাবাচ্ছে পুলিশকে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বৃদ্ধার চার ছেলে। বড় ছেলে নন্দলাল সাউ ব্রহ্মপুরেই থাকেন। বাকিরা থাকেন দিল্লি, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এবং বিহারের নালন্দায়। শিবরানি ঘুরে ঘুরে চার ছেলের কাছেই থাকতেন। গত তিন মাস ধরে তিনি বড় ছেলে নন্দলালের কাছে থাকছিলেন। নন্দলালের চার ছেলে। ঋষি রাজনারায়ণ রোডের একটি চার তলা বাড়ির তিনটি তলায় নন্দলালের তিন ছেলে থাকেন। আর এক ছেলে কাছেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে।

নন্দলালের এক ছেলে রাজুকুমার সাউ জানালেন, দিল্লির বাসিন্দা ছেলের কাছে থাকার পরে মাস তিনেক আগে কলকাতায় ফিরেছিলেন তাঁর ঠাকুরমা। তার আগে তিন মাস ধানবাদে এবং তারও আগে তিন মাস নালন্দায় থেকেছেন। রাজু বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরমাকে ফ্ল্যাটের ছাদে নিয়ে গেলাম। চেয়ারে অনেক ক্ষণ বসলেন। তার পরে নীচে নিয়ে এলাম। রাত সাড়ে ১১টার সময়ে রোজকার মতোই দুধ-রুটি খেলেন। তার পরে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন ১২টা নাগাদ। সবই তো ঠিক ছিল। আমার বাবা ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ শৌচাগারে গিয়ে দেখেন, দরজা অর্ধেক খোলা। ঠাকুরমা ভিতরে মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। শরীরের উপরের অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে। সুতির শাড়ির বেশ কিছুটা অংশ পুড়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল। তখনই বাবা আমাদের সবাইকে ডাকেন। কিন্তু তত ক্ষণে সব শেষ।’’

নন্দলালের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবরানির শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। সেই জন্য তাঁকে ওষুধ খেতে হত। ছেলে, নাতিপুতিদের সঙ্গে ভালই সম্পর্ক ছিল বৃদ্ধার। তবে, গত কয়েক দিন কথাবার্তা কমিয়ে একটু চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। রাজু বলেন, ‘‘২০১১ সালে আমার ঠাকুরদা পরমেশ্বর সাউ মারা যান। তার পর থেকে ছেলেদের কাছে ঘুরে-ফিরে থাকতেন ঠাকুরমা। সকলেই ঠাকুরমার যত্ন নিতেন। তবু এই ৯০ বছর বয়সে এসে ঠাকুরমা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, বুঝতে পারছি না।’’

আরও পড়ুন