Government and Private Buses in Kolkata decrease

কলকাতায় সরকারি-বেসরকারি বাস বাড়ন্ত! আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ভোগান্তির শিকার হতে পারেন নিত্যযাত্রীরা

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাসের দেখা মিললেও, সন্ধ্যার পর বাসের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, কলকাতা এবং শহরতলির নিত্যযাত্রীদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৯
Commuters suffer as government and private buses in Kolkata decrease

বাস কমে যাওয়ায় বাড়ছে যাত্রীভোগান্তি। —ফাইল চিত্র।

প্রবল শীতের দাপটে কলকাতা ও শহরতলিতে সরকারি এবং বেসরকারি বাসের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহ থেকেই বাসের সংখ্যা বাড়ন্ত। এর কারণ প্রসঙ্গে একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরছেন বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠন। কেউ এ ক্ষেত্রে আগামী গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে সরকারি বাস অধিগ্রহণ করে নেওয়াকে দায়ী করছেন। কেউ আবার প্রবল ঠান্ডার দাপটকে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করছেন। তবে বাসমালিকদের এমনও সংগঠন রয়েছে, যারা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীকে (এসআইআর)-কে দায়ী করেছে।

Advertisement

পরিবহণ দফতরের একটি সূত্র বলছে, প্রতিদিন কলকাতা এবং শহরতলি মিলিয়ে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পাঁচশো বাস যাত্রীদের পরিষেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রবল শীত, গঙ্গাসাগর মেলা, এসআইআর-সহ একঝাঁক কারণে বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ২৭০০ থেকে ২৮০০ হয়ে গিয়েছে। একধাক্কায় এত বৃহৎ সংখ্যায় বাস কমে যাওয়ায় যাত্রীভোগান্তি চরমে উঠেছে। ‌এক বেসরকারি বাসের মালিক জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, ১০-১৮ জানুয়ারি। কারণ, তখন গঙ্গাসাগর মেলায় পরিষেবা দিতে কাকদ্বীপ এবং সাগরে অনেক সংখ্যায় সরকারি এবং বেসরকারি বাস নিয়ে যাওয়া হবে সরকারের তরফে। সেই সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাসের দেখা মিললেও, সন্ধ্যার পর বাসের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, কলকাতা এবং শহরতলির নিত্যযাত্রীদের। এ প্রসঙ্গে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের নেতা টিটু সাহা বলেন, “গত সপ্তাহে হুগলি জেলার পান্ডুয়ায় মুসলিমদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য অনেক বেসরকারি বাস ভাড়ায় নেওয়া হয়েছিল। তাই শহরে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সোমবার ওই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই মঙ্গলবার থেকে বাসগুলি ফিরে এসেছে। কিন্তু বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে।” তিনি আরও বলছেন, “শীতের দাপটে সন্ধ্যার পর আর বাসচালক ও কন্ডাক্টারেরা বাস চালাতে চাইছেন না। আবার পুলিশি জুলুমের জন্য অনেক বাসমালিক শনিবার রবিবার বাস পরিষেবা বন্ধ রাখেন। এমন সব বিষয়ও রাস্তায় বাস কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।”

অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাস কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে এসআইআরকেও ধরা যেতে পারে। কারণ, গ্রামাঞ্চল থেকেই মানুষ কলকাতায় বাস চালাতে বা কন্ডাক্টারি করতে আসেন। কিন্তু এসআইআরের কাজে অনেকেই শুনানিতে ডাক পাওয়ার কারণে বেসরকারি বাস চালাতে আসতে পারছে না।” তবে পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল বিকল্প বন্দোবস্তের আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘‘সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই জন্য পরিবহণ দফতর বিকল্প বন্দোবস্ত করছে। কারণ, রাজ্য সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া। সেই লক্ষ্যে আমরা অবিচল।’’

Advertisement
আরও পড়ুন