ফের ইডি হেফাজতে ব্যবসায়ী জয় কামদার। — ফাইল চিত্র।
কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে কী ভাবে জড়িয়ে ধৃত বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার? গোটা চক্র চলত কী ভাবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জয়কে আরও জেরার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানায় ইডি। সেই কারণে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিল তারা। আবেদন মেনে তিন দিন অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজত মঞ্জুর করেছে আদালত।
কেন জয়কে হেফাজতে চায়, নেপথ্যে ১৭টি কারণ আদালতের সামনে তুলে ধরেছে ইডি। তারা জানিয়েছে, সম্প্রতি এই মামলায় তল্লাশি চালিয়ে যে সব তথ্য উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতে জেরার প্রয়োজন রয়েছে। আদালতে একটি ‘হলুদ ডায়েরি’র কথাও উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ডায়েরিকে সামনে রেখে জেরার প্রয়োজনীয়তা আদালতে জানায় ইডি।
এ ছাড়াও, সোনা পাপ্পুর ভূমিকা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে জয়কে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় বলে আদালতে জানায় ইডি। জমি দখল, সিন্ডিকেটে আর কারা জড়িত, তা-ও জানতে চান তদন্তকারীরা। দুর্নীতির টাকা কোথা থেকে কোথায় যেত, তার রূপরেখা আঁকতেও জয়কে জেরা চান বলে আদালতে জানায় ইডি। উল্লেখ্য, ইডি আগেই জানিয়েছিল, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে জয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দু’জনের মধ্যে মোটা টাকার লেনদেনও হয়েছিল। যদিও আদালতে জয়ের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে এই আবেদন খারিজ করে ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
জয় প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। গত ১৯ এপ্রিল তাঁর বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকেরা। তাঁর বাড়িতে অভিযান চলাকালীনই জয়কে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে যায় ইডি। পরে বিকেলের দিকে গ্রেফতার করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, সম্প্রতি সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সূত্র ধরে জয়ের নাম পায় তারা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ব্যবসায়ীকে বার দুয়েক তলবও করা হয়েছিল। কিন্তু হাজিরা দেননি ওই প্রোমোটার। সেই কারণেই তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি।