ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর শাম্স ইকবাল। ছবি: ফেসবুক।
কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা শাম্স ইকবালকে। তিনি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। একাধিক জনসভা, কর্মসূচিতে একই মঞ্চে ফিরহাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, গার্ডেনরিচ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তুলেছেন এই নেতা।
শাম্স কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহম্মদ শাদাব নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শাম্স এবং তাঁর ঘনিষ্ঠেরা অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করেন। জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বিঘ্নে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে। মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলা হয় তাঁর কাছ থেকে। টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন কাউন্সিলর। নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে সেই টাকা তখন দিয়ে দিয়েছিলেন অভিযোগকারী। দাবি, ভয়ে এত দিন পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। এর পরেও পিস্তল দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় আরও টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ। শাম্স ছাড়াও তাতে অভিযুক্ত হিসাবে নাম রয়েছে মহম্মদ ফারাজ়, ফেরোজ় কুরেশী-সহ কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের। অভিযোগ, এলাকায় তাঁদের দাপট ছিল। শাম্সকে গ্রেফতার করেছে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ। তাঁকে সোমবারই আদালতে হাজির করানো হবে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে চাইতে পারে পুলিশ। প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তোলাবাজি, ভয় দেখানোর মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ছাড়া, অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দিকে দিকে কাউন্সিলরেরা গ্রেফতার হচ্ছেন। অধিকাংশের বিরুদ্ধেই তোলাবাজি, ভয় দেখানোর অভিযোগ। যাঁরা এত দিন তৃণমূলের দাপটের কারণে মুখ খুলতে পারতেন না, তাঁরাই এখন থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করছেন বলে দাবি। কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে।