Hight Bar

বিপদ বাড়াচ্ছে হাইট বার! পুলিশি নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

পারদ নামার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাইট বার ঘিরে বিপদ। এ জন্য রাতে ও ভোরের দিকে প্রবল কুয়াশাকে পুলিশের একাংশ দায়ী করছে।

নীলোৎপল বিশ্বাস
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৪

—প্রতীকী চিত্র।

মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পরে শহরের সেতু, উড়ালপুলের ভার লাঘব করতে জোর দেওয়া হয়েছিল হাইট বার বসানোর উপরে।কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সেই হাইট বারই এখন শহরের রাস্তায় বিপদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। যেমন, কখনও হাইট বারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে যাচ্ছে যাত্রী বোঝাই বাস, কখনও আবার হাইট বারে ধাক্কা খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস আটকে থেকেছেগঙ্গাসাগরে যাওয়ার পথে। অন্ধকারে বুঝতে না পেরে হাইট বারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গিয়েছে লরি। কখনও আবার দুর্গাপুজোর বিসর্জনে যাওয়ার পথে হাইট বারে ধাক্কা খেয়ে মাথা থেঁতলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। প্রশ্ন উঠছে, হাইট বার কি তবে চোখে পড়ছে না? যে রাস্তায় হাইট বার রয়েছে, সেই রাস্তায় এমন গাড়ি ঢুকছেই বা কী ভাবে? তা হলে কি রাতে পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি থাকছে না?

কারণ হিসাবে পুলিশের অন্দরেই উঠে আসছে বাহিনীর একাংশের গাফিলতির কথা। দেখা যাচ্ছে, পারদ নামার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাইট বার ঘিরে বিপদ। এ জন্য রাতে ও ভোরের দিকে প্রবল কুয়াশাকে পুলিশের একাংশ দায়ী করছে। তবে বাহিনীর অন্য অংশ আঙুল তুলছে, রাতের রাস্তায় পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক পুলিশ না থাকার দিকে। তাদের দাবি, যে রাস্তায় হাইট বার থাকার জন্য ভারী বা বড় গাড়ির যাওয়ার কথা নয়, নজরদারির অভাবে সেখানেও পৌঁছে যাচ্ছে ওই ধরনের গাড়ি।

এখন দিনের বেশির ভাগ সময়ে ম্যানুয়ালি বা হাতে ট্র্যাফিক সিগন্যাল বদলানো হয়। প্রয়োজন মতো সিগন্যাল লাল বাসবুজ করেন কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীরা। কিন্তু রাত বাড়লে শহরের রাস্তায় ‘অটোম্যাটিক সিগন্যাল’ বা স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো হয়।

এক ভুক্তভোগী নাগরিকের দাবি, ‘‘এই সময়ে পুরোটাই চলেস্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল আর কিছু গার্ডরেলের ভরসায়। ফলে বহু চালকই যে পথে যাওয়ার কথা নয়, সেই পথে চলে যান। তাঁদের অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোথায় হাইট বার রয়েছে। হাইট বারের গায়ে পর্যাপ্ত রিফ্লেক্টর স্টিকার লাগানো না থাকায় অন্ধকারে বোঝাও যায় না। তার ফলই হয় বিপজ্জনক।’’

শহরের রাস্তায় পূর্ত দফতর বা কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) মূলত হাইট বার তৈরি ওরক্ষণাবেক্ষণ করে। কেএমডিএ-র এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, যে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যে সংস্থার হাতে, তারাই সেখানকার হাইট বার তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে। এমনিতে ৫.৩ মিটারের বেশি চওড়া, দু’লেনের উড়ালপুল বা সেতুর ভার বহন ক্ষমতা ১০০ টন (‘ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস’-এর বিধি অনুযায়ী)।

তবে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৮-র জুলাইয়ে আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি ভার বহনের ছাড় দিয়েছে লরিগুলিকে। যদিও সেই নিয়ম এ রাজ্যে চালু হয়নি। এই ভার বহন ক্ষমতার উপরে ভিত্তি করে ঠিক হয়, কোথায় হাইট বার বসবে। সাধারণত যে সেতু বা উড়ালপুল দিয়ে বাস যায়, সেখানে ৩.১৫ মিটার উচ্চতার হাইট বার বসানো হয়। যেখান দিয়ে বাস যাওয়ার অনুমতি থাকে না, সেখানে ২.৮৫ মিটারের হাইট বার বসানো হয়।

পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘হাইট বার বসালেই শুধু হল না। সেটির উচ্চতা কত এবং সেতু থেকে কতটা দূরে বসানোহয়েছে, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য হাইট বারের গায়ে লিখে দেওয়া জরুরি। সেই লেখা যাতে দূর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সেটাও দেখতে হয়। চালকের আসন থেকে পড়তে যাতে সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হয়। হাইট বারের গায়ে রিফ্লেক্টরস্টিকার লাগানো বা অন্ধকারেও বোঝা যায় এমন রং করে দেওয়া বাধ্যতামূলক।’’

কিন্তু শহর ঘুরে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ হাইট বারের ক্ষেত্রেই এই সব নিয়মের কিছুই মানা হয়নি। সেগুলির গায়ে রিফ্লেক্টর স্টিকার লাগানো তো দূর, শেষ কবে রং করা হয়েছে, তা-ও বোঝা দায়। অধিকাংশ হাইট বারের গায়ে আবার রাজনৈতিক দলের হোর্ডিং বা বিজ্ঞাপনী পোস্টার ঝোলানো হয়েছে। তার নীচেইঢাকা পড়েছে ট্র্যাফিক সঙ্কেত সংবলিত বোর্ড।

কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের এক শীর্ষ কর্তার মন্তব্য, ‘‘এ সবের জন্যই বিপদ হচ্ছে। দ্রুত হাইট বার নিয়ে আলাদা ভাবে পদক্ষেপ করা শুরু হবে।’’

আরও পড়ুন