—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ক্রমে বাড়ছে কলকাতা মেট্রোয় (কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর লাইনে) আত্মহত্যার প্রবণতা। এই পরিস্থিতিতে স্টেশনগুলিতে দরজা বসানোর কাজ কত দূর জানতে চেয়ে সংসদে তিনটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। সেই প্রশ্নমালার জবাবে রেলমন্ত্রক সাড়ে চার পাতার ফিরিস্তি দিলেও নির্দিষ্ট প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ।
মালার লিখিত প্রশ্নে বুধবার সংসদে লিখিত জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক। দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ জানতে চেয়েছিলেন, কলকাতার মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে দরজা বসানোর কাজ কত দূর এগিয়েছে? এই প্রকল্পের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে? কতদিনের মধ্যে ওই কাজ শেষ হবে?
মালার প্রশ্নের জবাবে জবাবে প্রথমেই রেলমন্ত্রক লিখিত ভাবে জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্ম চওড়া করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব আছে। প্রশ্ন উঠছে, প্ল্যাটফর্মের ধার ঘেঁষে দরজা বসানোর জন্য তা চওড়া করার কী প্রয়োজন? তা হলে কি মালার প্রশ্ন না-বুঝেই ‘উদ্ভট’ জবাব দিয়েছে রেলমন্ত্রক? নাকি মন্ত্রকের কাছে উত্তরই নেই? এর পরেই কলকাতা মেট্রোর ‘ইতিহাস’ সংক্ষিপ্ত আকারে লিখেছে রেলমন্ত্রক। ১৯৭২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কত কিলোমিটার মেট্রোপথ ছিল, ২০১৪-২০২৫ (নরেন্দ্র মোদী জমানার ১১ বছর) কতটা সম্প্রসারিত হয়েছে, সেই পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। জোকা-এসপ্ল্যানেড, নোয়াপাড়া-বারাসত, বরানগর-ব্যারাকপুর-সহ বিভিন্ন মেট্রো রুটে কোথায় কোথায় কী কী সমস্যা তার ফিরিস্তি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্রতিটি স্টেশনেই প্ল্যাটফর্মে দরজা ব্যবস্থা রয়েছে। মাটির নীচের স্টেশনগুলিতে পুরো দরজা এবং উপরের স্টেশন গুলিতে অর্ধেক দরজা রয়েছে। ফলে সেখানে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে না। পরীক্ষামূলক ভাবে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের ধারে রেলিং বসিয়েছিলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা যে একেবারেই কার্যকরী নয়, তা-ও নিত্যযাত্রীদের জানা। কিন্তু মেট্রোর আত্মহত্যা রুখতে কলকাতা মেট্রোর পুরনো লাইনের সব স্টেশনে কবে দরজা বসবে, তার জন্য কত বরাদ্দ, কতদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে, এই তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনওটিরই জবাব দেয়নি রেলমন্ত্রক।