বাসে ভিএলটিডি ডিভাইস সংক্রান্ত সমস্যা মিটবে?
রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ভেহিক্যাল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (ভিএলটিডি) নিয়ে দীর্ঘদিনের কারিগরি জটিলতা ও রিচার্জ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে ওয়েবেল। সম্প্রতি পরিবহণ দফতরের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ দফতরের স্পেশ্যাল সেক্রেটারি কাঞ্চন চৌধুরী, ডিরেক্টর ট্রান্সপোর্ট দীপঙ্কর দাস এবং ওয়েবেলের প্রতিনিধিরা।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু গাড়িতে এমন কিছু ভিএলটিডি ডিভাইস লাগানো রয়েছে, যেগুলির রিচার্জ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে আর বাজারে সক্রিয় নয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও রিচার্জ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুরনো ও অচল সংস্থাগুলির ডিভাইসকে প্রযুক্তিগত ভাবে ‘আনট্যাগ’ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বৈঠকে ওয়েবেলকে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ দফতরের মতে, ডিভাইস সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যাতে গাড়ির মালিক বা পরিবহণ সংস্থাগুলিকে অযথা হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওয়েবেলও দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
অন্য দিকে, ভিএলটিডি ডিভাইস স্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন পরিবহণ দফতর নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থাকে তালিকাভুক্ত বা ‘এমপ্যানেল’ করে ডিভাইস বসানোর অনুমতি দিত। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পর নতুন করে কোনও সংস্থাকে এমপ্যানেল করার সুযোগ নেই। এর ফলে বাজারে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় যে কোনও সংস্থা ভিএলটিডি ডিভাইস সরবরাহ ও স্থাপন করতে পারবে। ফলে পরিবহণ মালিকদের সামনে একাধিক বিকল্প তৈরি হবে এবং প্রতিযোগিতার কারণে তুলনামূলক কম খরচে পরিষেবা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। তবে নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ওয়েবেলের নির্ধারিত পাসওয়ার্ড ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। ওয়েবল অনুমোদিত পাসওয়ার্ড ছাড়া কোনও নতুন নির্মাতা বা পরিষেবা প্রদানকারী এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না।
পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, বাজার উন্মুক্ত হলেও পুরো ব্যবস্থার উপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের হাতেই থাকবে। ভিএলটিডি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গণপরিবহণ ব্যবস্থার ডিজিটাল নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে এবং পরিবহণ মালিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যারও সমাধান হবে। এ প্রসঙ্গে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের নেতা টিটু সাহা বলেন, ‘‘ভিএলটিডি নিয়ে আমাদের মতো বাস সংগঠনগুলি জেরবার। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক, সেই জন্য যে কোনও ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু সবার আগে সুষ্ঠু আয়োজন করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।’’