মুকুন্দপুরের গুনিয়াগাছি খালের পাড়ে লোহার বেড়া। —নিজস্ব চিত্র।
জমি বাঁচাতে এ বার নড়েচড়ে বসল সেচ দফতর। দখলদারি এবং সেই সঙ্গে বয়ে যাওয়া জলে আবর্জনা ফেলা ঠেকাতে এ বার কলকাতা ও দমদমের বিভিন্ন খালের ধারে তারের বেড়া বসাবে সেচ দফতর। এর ফলে, সময়ের আগে খাল বুজে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই ঠেকানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যে শুরুও হয়ে গিয়েছে।
গত বছর প্রবল বর্ষণে ই এম বাইপাস লাগোয়া বহু এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল খালের জল উপচে পড়ায়। যার অন্যতম প্রধান কারণ খালের ধারের জমিতে অবৈধ দখলদারি এবং সেই দখলদারদের তরফে নানা ধরনের আবর্জনা খালে ফেলার দীর্ঘ অভ্যাস। সেই কারণেই বহু খাল বুজে গিয়েছে। সেচ দফতর সূত্রের খবর, কলকাতা এবং উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলির ১১টি খালের ধার বেড়া দিয়ে ঘেরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা পুর এলাকার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের ভিতর দিয়ে যাওয়া এ-৫ এ-৬ খাল, ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে যাওয়া গুনিয়াগাছি শাখা খাল, সুতি খাল, সি-২, সি-৩ শাখা খাল, ১০৩ ও ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে যাওয়া টি পি মণিখাল, ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডিডি-১ (পশ্চিম) খাল, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইই-১ (পূর্ব) খাল, ১০৬, ১০৭ ও ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্টারসেপ্টিং খাল, ১১৪, ১১৫, ১২২ ও ১৪২ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে কেওড়াপুকুর খাল, ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়েস্টার্ন খাল, ৫, ৬, ৭ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সার্কুলার খাল, এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৮ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ড ধরে বয়ে যাওয়া আপার বাগজোলা খাল। কোথাও স্বল্প দৈর্ঘ্যের, কোথাও আবার দীর্ঘ পরিমাপের বেড়া দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, অতীতেও কলকাতার বিভিন্ন খালের ধারে বেড়া দিয়েছিল সেচ দফতর। কিন্তু সেই বেড়া রক্ষা করা যায়নি। বেড়া কেটে খালের জমি দখল করে নিয়েছেন লোকজন। কোথাও কোথাও বেড়া কেটে খালের ধারে আবর্জনা ফেলে স্তূপ করা হয়েছে। তার উপরে পড়ে রয়েছে খালধার নোংরা করা রুখতে সতর্কীকরণের বোর্ড। সেই সব দখলদারকে খালের ধার থেকে সরানো তো যায়ইনি, উল্টে খালের ধারে দোতলা বাড়িও তৈরি হয়ে গিয়েছে কোথাও কোথাও। উত্তর কলকাতায় খালের উপরে এমন অসংখ্য বাড়ি রয়েছে।
তা সত্ত্বেও বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে নিজেদের হৃত জমি পুনরুদ্ধারের মতো কঠিন পথে হাঁটতে চায়নি বাম কিংবা তৃণমূল, কোনও সরকারই। অথচ, নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বার বারই সেচ দফতর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, পশুর মৃতদেহ, তোশক-বালিশ, প্লাস্টিক, ভাঙা আসবাব, মেডিক্যাল বর্জ্য— সব কিছুই ফেলা হয় খালে।
সেচ দফতরের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, বেড়া উঁচু করে দেওয়া হবে। যাতে অন্তত তোশক, আসবাব কিংবা পশুর আস্ত দেহ খালে ফেলা সহজ না হয়। এমনকি, বেড়া যাতে কাটা না যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে বলেই দাবি করেছে সেচ দফতর। তবে তারা মানছে, এত কিছু করেও শেষরক্ষা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, বেড়া দেওয়ার পরে তা রক্ষিত হচ্ছে কিনা, তার উপরে নজর রাখার মতো পরিকাঠামো কিংবা লোকবল নেই সেচ দফতরের। আর সংশ্লিষ্ট পুর সংস্থাগুলির ভূমিকাও এ সব ক্ষেত্রে সব সময়ে সদর্থক থাকে না, এমনটা অতীতে অনেক বার দেখা গিয়েছে।