Hawker Eviction Protest

যাদবপুরে বুলডোজ়ার দিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান! লাঠিচার্জ বিক্ষোভকারীদের উপর, আহত অনেকে, আটক সৃজন

রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকা। সেখানে আচমকা হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয়। জমায়েতস্থলের অদূরে একাধিক বুলডোজ়ার রাখা ছিল। ঘটনাস্থলে ছিল কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ২৩:৪৫
রবিবার রাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান যাদবপুর স্টেশনে।

রবিবার রাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান যাদবপুর স্টেশনে। — নিজস্ব চিত্র।

গভীর‌ রাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান যাদবপুরে। স্টেশন চত্বরে একাধিক বেআইনি দোকান ও নির্মাণ বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙা হল। উচ্ছেদ অভিযান রুখতে সন্ধ্যা থেকে চলেছে বাম-কংগ্রেসের সম্মিলিত প্রতিবাদ। ভিড় ছিল স্থানীয়দেরও। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বসানো হয় ব্যারিকেড। আটক করা হয়েছে সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ অনেককে। তাঁকে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, “আমরা আছি। বেআইনি কাজ করছে রেল। আদালত ও আইনকে উপেক্ষা করে উচ্ছেদ করতে এসেছে তারা।” তাঁর দাবি, তাঁকে জোর করে বেআইনি ভাবে আটক করা হয়েছে। উচ্ছেদ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত হন নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ অনেকে। জয়রাজের মাথা ফেটেছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement
পুলিশ ভ্যানে সৃজন ভট্টাচার্য।

পুলিশ ভ্যানে সৃজন ভট্টাচার্য। — নিজস্ব চিত্র।

রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকা। সেখানে আচমকা হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয়। জমায়েতস্থলের অদূরে একাধিক বুলডোজ়ার রাখা ছিল। ঘটনাস্থলে ছিল কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। একের পর এক দোকান ভাঙা হয় বুলডোজ়ার দিয়ে। লাঠিচার্জ করার অভিযোগও ওঠে।

বুলডোজ়ারের সামনে শুয়ে চলছে প্রতিবাদ যাদবপুরে।

বুলডোজ়ারের সামনে শুয়ে চলছে প্রতিবাদ যাদবপুরে। — নিজস্ব চিত্র।

সন্ধ্যা থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন সৃজন, ঊষসী চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা সৌরভ প্রসাদ। কংগ্রেস ও বাম সংগঠনগুলি একজোটে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। উচ্ছেদ অভিযান আটকাতে বুলডোজ়ারের সামনেই শুয়ে পড়েন এক জন। বেশ কয়েক জন বুলডোজ়ারের উপরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ‌ও করেন।

কংগ্রেসের বিক্ষোভ।

কংগ্রেসের বিক্ষোভ। — নিজস্ব চিত্র।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে সৃজন বলেন, “হকারদের এখানে বসে থাকাটা বেআইনি বলছেন যাঁরা, তাঁরাই যে ভাবে হকার উচ্ছেদ করছেন সেটাও বেআইনি। এই চত্বরে কমার্শিয়াল প্লট না দিয়ে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা যাবে না— এই মর্মে যে রায়টি ১৯৮৮ সালের আছে, রেল সেটার সার্টিফায়েড কপি চেয়েছিল। গত মঙ্গলবার রেলের সঙ্গে পরিষ্কার কথা হয়েছিল। আগামী ৮ জুন কোর্ট খুলবে। কোর্ট খোলার পর ২১ দিন সময়ের মধ্যে আমরা সেই কাগজ রেলকে দিয়ে দেব। এর পরও কেন রেল কথার খেলাপ করছে জানি না।”

ঘটনাস্থলে ঊষসী চক্রবর্তী।

ঘটনাস্থলে ঊষসী চক্রবর্তী। — নিজস্ব চিত্র।

ঊষসী বলেন, “এখানে হকার থাকা যদি বেআইনি হয় তা হলে আজকের উচ্ছেদটাও বেআইনি। আগের দিন নোটিস দেখিয়ে কথা হয়েছিল কোর্ট খুললে আমরা সার্টিফায়েড কপি দেব। তার পরেও এই উচ্ছেদটা আদালত আবমাননা করা হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের তো দাঁড়াতেই হবে। এ ভাবে তো একটা রাজ্য চলতে পারে না। একটা আইন আদালতের ব্যাপার তো আছেই।”

এলাকায় জমায়েত।

এলাকায় জমায়েত। — নিজস্ব চিত্র।

গত মঙ্গলবার রাতেও, হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয় যাদবপুর স্টেশন এলাকায়। সে দিনও প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন বাম নেতা ও কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল বুলডোজ়ার। তবে শেষমেশ মঙ্গলবার উচ্ছেদ হয়নি।

এর আগে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বেআইনি হকার ‘উচ্ছেদ’ করেছে রেল। কখনও আবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ারও নামানো হয়। সূত্রের খবর, শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন চত্বরে প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী ঝুপড়ি এবং ছোট দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। শুধু স্টেশন চত্বর নয়, হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় বহুতলের বেআইনি নির্মাণ ভাঙতেও বুলডোজ়ার চালানো হয়। রাতারাতি এই উচ্ছেদ অভিযানে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কারও দাবি, সকালে এসে দেখেন তাঁর দোকান আর নেই। আবার কেউ কেউ জানান, উচ্ছেদের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। প্রায় সকলের মুখে একটাই অভিযোগ ছিল, রেল আচমকা উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

অন্য দিকে, হাওড়া ময়দান সংলগ্ন এলাকার রাস্তা এবং ফুটপাতে আর পসরা নিয়ে বসতে পারবেন না মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের হাওড়া থানায় ডেকে জানিয়ে দেন হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। এ-ও জানান রাজ্য সরকারের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন