International Kolkata Book Fair 2026

কলকাতা বইমেলায় নেই আমেরিকা, বিস্মিত গিল্ড

ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ‘ডিল’ বা দেনা-পাওনার সম্পর্কেই বিশ্বাসী, তা আরও এক বার প্রমাণ করে দিয়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:০৮

— প্রতীকী চিত্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালি কূটনীতির ইতিমধ্যেই শিকার এবং সাক্ষী নয়াদিল্লি। ভারতীয় পণ্যের উপরে পঞ্চাশ শতাংশ শুল্কের ভার কমানো তো যায়ইনি, বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ‘অপরাধে’ আরও ২৫ শতাংশ চাপানোর হুমকি দিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তিনি যে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ‘ডিল’ বা দেনা-পাওনার সম্পর্কেই বিশ্বাসী, তা আরও এক বার প্রমাণ করে দিয়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। কারণ হিসেবে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডকে বলা হয়েছে, বইমেলার স্টল দেওয়া বাবদ অর্থ বরাদ্দই করা হয়নি!

গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়। বলছেন, “গত কুড়ি বছর বইমেলার বিভিন্ন উত্থান-পতন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং মেলার স্থানান্তরের মধ্যেও আমেরিকা আমাদের সঙ্গে থেকেছে। প্রত্যেক বছর বড় স্টল থাকত তাদের। বইপ্রেমীরা ভিড় করতেন আমেরিকার সাহিত্য, দর্শন, প্রযুক্তি ম্যানেজমেন্ট-এর বইয়ের জন্য। ২০১১ সালে আমেরিকা আমাদের থিম রাষ্ট্র ছিল, যখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কমিউনিস্ট নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

কিন্তু এ বারে তারা কেন থাকল না তার কারণ স্পষ্ট নয় ব্যবস্থাপকদের কাছে।”

ত্রিদিব এটাও জানাচ্ছেন, ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট হন অর্থাৎ গত বছরের গোড়ায়, তখনও বইমেলা নিয়ে ভরপুর উৎসাহ ছিল কলকাতায় আমেরিকান কনসুলেটের কর্তাদের। এমনকি কনসাল জেনারেল ক্যাথি জাইলস ডিয়াজ় বইমেলা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন গিল্ডের প্রতিনিধিদের কাছে। ২০২৭ সালের বইমেলায় যাতে আমেরিকাকে থিম রাষ্ট্র করা হয় সে জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি এবং গিল্ড। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে চিঠি বিনিময় হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।

এই ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র কলকাতা বইমেলা প্রাঙ্গণই নয়, ভারত এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্রের বক্তব্য, বিষয়টি বর্তমান দ্বিপাক্ষিক টানাপড়েনেরই ফলাফল। ঘটনা হল ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিস্তর প্রশংসা করছেন কিন্তু একইসঙ্গে নয়াদিল্লির সরকারের নিন্দা করছেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে বাড়তি যে ২৫ শতাংশ শুল্ক তিনি ভারতীয় পণ্যের উপরে বসিয়ে রেখেছেন তা এখনও ঝেড়ে ফেলতে পারেনি ভারত। উল্টে আরও পঁচিশ শতাংশ (ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য প্রসঙ্গে) যাতে না বসে তার জন্য রীতিমতো কূটনৈতিক দৌত্য চালাতে হচ্ছে সাউথ ব্লককে। বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিন দিন আগে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকের পরে আশা তৈরি হয়েছে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। কিন্তু বইমেলা থেকে আমেরিকার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আবারও নেতিবাচক আবহ তৈরি করল বলে মনে করছে কূটনৈতিক শিবির।

আরও পড়ুন