—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আরজি করের মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের মামলায় স্টেটাস রিপোর্ট শিয়ালদহ আদালতে জমা দিল সিবিআই। তবে এই মামলায় সিবিআই তদন্ত নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তুললেও বর্তমানে সেই বিষয় কার্যত এড়িয়েই গেলেন আরজি করের নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী প্রথমে জানান, সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। পরে জানান, এখন আর কোনও অভিযোগ নেই। আর নির্যাতিতার বাবা প্রসঙ্গ এড়িয়ে জানালেন, যা বলবেন ৪ মে-র পর।
আরজি করের ঘটনার পর থেকে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে বহু বার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে আদালতের নির্দেশেই তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। তবে ওই মামলায় নতুন করে তাঁরা আর কাউকে গ্রেফতার করেনি। পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছিলেন এই মামলার অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। শেষপর্যন্ত আদালত তাঁকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেয়। তবে তার পরেও সিবিআই তদন্ত নিয়ে বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তবে বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে সিবিআই তদন্ত নিয়ে সব প্রশ্নই প্রায় এড়িয়ে গেলেন তাঁরা। বললেন, ‘‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।’’
শিয়ালদহ আদালতের বাইরে প্রথমেই আরজি করের নির্যাতিতার মা-কে সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তবে প্রচারে তা তুলে ধরা হচ্ছে না। আজ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই।’’ একই প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘কাজ না-করলে তো অভিযোগ থাকবে। যা বলার ৪ তারিখের পর বলব। সবই বিচারাধীন।’’
আরজি করের মা-বাবা প্রকাশ্যে সিবিআই তদন্ত নিয়ে তেমন কিছু বলতে না-চাইলেও আদালতে তাঁদের আইনজীবীরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘‘সঞ্জয়ের একার পক্ষে এই অপরাধ সম্ভব নয়। আরও কেউ জড়িয়ে রয়েছে।’’ তার পরেই আরজি করের পরিবারের আইনজীবী বলেন, ‘‘সঞ্জয়কে ঠান্ডা ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে সিবিআই। দেখে মনে হচ্ছে, কিছু দিন এ ভাবে চলুক, তার পরে জামিন পেয়ে যাবে। লোক ভুলে যাবেন।’’
আরজি করের নির্যাতিতার আইনজীবীর প্রশ্ন, সিবিআই হাই কোর্টের নির্দেশ মানছে না। হাই কোর্ট সঞ্জয়কে জেরা করতে বলেছে। কিন্তু সিবিআই শুধু ‘যদি প্রয়োজন’ শব্দের উপর জোর দিচ্ছে। যদি তাই হয় তবে লিখিত ভাবে জানিয়ে দিক জেরার প্রয়োজন নেই। সিবিআইয়ের আইনজীবী বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা করে। সিবিআই জানিয়েছে, তারা নতুন করে সাত জনকে জেরা করেছে।