—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
কলকাতার চিৎপুরে এক ছাত্রীকে খুনের চেষ্টা এবং বাড়ি থেকে জিনিসপত্র লুটের ঘটনায় সাজা ঘোষণা করল শিয়ালদহ আদালত। শুক্রবারই ওই ছাত্রীর সাঁতার প্রশিক্ষক সন্দীপ সাউকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন বিচারক অনির্বাণ দাস। শনিবার তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা শোনাল আদালত।
২০২৫ সালের ঘটনা। অভিযোগ উঠেছিল, লুটের উদ্দেশ্যে সে ওই নাবালিকার বাড়ি যায়। লুটের কাজে বাধা দিলে নাবালিকাকে গুরুতর আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত নেমে সন্দীপকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৪৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিয়েছিল পুলিশ। তার পরে চার্জ গঠনের পর শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব, সাক্ষ্যগ্রহণের পর শুক্রবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন বিচারক। শনিবার সাজা শোনানো হল।
সরকারি আইনজীবী অসীম কুমার জানান, হত্যার চেষ্টার জন্য আদালত দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আর ডাকাতির জন্য ১০ বছর এবং নাবালিকাকে গুরুতর আঘাতের জন্য ৭ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছেন বিচারক।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বাড়িতে একাই ছিল ওই নাবালিকা। সে সময় সন্দীপ তাকে জানান, তার বাবা অসুস্থ। চিকিৎসার খরচের জন্য গয়না বন্ধক রাখতে হবে। তাই সেই গয়না নিতে ছাত্রীর মা তাঁকে পাঠিয়েছেন। সন্দীপ পূর্বপরিচিত হওয়ায় প্রথমে ওই ছাত্রীর কোনও সন্দেহ হয়নি। অভিযুক্ত তাকে ব্যায়াম করতে বলেন। তার পরেই আলমারি থেকে গয়না বার করতে শুরু করেন।
সাঁতার প্রশিক্ষকের এ ধরনের কীর্তিতে সন্দেহ জাগে ওই ছাত্রীর। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতেই সন্দীপ গামছা দিয়ে ছাত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে দেন। অজ্ঞান হয়ে যায় সে। বাড়ি থেকে চম্পট দেওয়ার আগে রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে ছাত্রীর নলি কেটে দেন সন্দীপ। তবে কিছু ক্ষণ পরে ওই নাবালিকার জ্ঞান ফেরে। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনও রকমে প্রতিবেশীদের সাহায্য চায় সে। তাঁরাই তাকে নার্সিংহোমে নিয়ে যান। প্রাণে বেঁচে যায় নাবালিকা।