West Bengal Budget 2026

বাজেটে বরাদ্দ হ্রাস তথ্য-সংস্কৃতির, খরচ কি কমবে মেলা-উৎসবে?

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গত সোমবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হয়েছে। তাতে চলতি আর্থিক বছরে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের অঙ্ক ধরা হয়েছে ৮১৫.০৮ কোটি টাকা।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৮:০০
(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যে পালাবদলের পরে খেলা-মেলা-উৎসবের বহর কি এ বার খানিকটা কমতে চলেছে?রাজ্য বাজেটে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে প্রশাসনিক মহলে।

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গত সোমবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হয়েছে। তাতে চলতি আর্থিক বছরে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের অঙ্ক ধরা হয়েছে ৮১৫.০৮ কোটি টাকা। অথচ, ভোটের আগে বিগত সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে (গত ফেব্রুয়ারি) সেই বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১০০৬.০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ১৯১.০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে চলতি অর্থবর্ষে। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের আমলে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের খরচের বহর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি, জরুরি এবং পরিকাঠামো খাতে ব‍্যয় করার চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার খেলা-মেলা-উৎসবের পিছনে বেশি খরচ করত বলে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ করেছে।

গত সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হতেই তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের বরাদ্দ কমে যাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের মতো খেলা-মেলা-উৎসবে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নবান্ন সূত্রের খবর, আগের সরকারের আমলে বছরভর নানা ধরনের উৎসব-অনুষ্ঠান চলত। সেই সঙ্গে ছিল বিভিন্ন রকম ভাতা, পুরস্কার-সহ আরও অনেক ধরনের ব্যয়। অধিকাংশ উৎসবের আয়োজনের পিছনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার।

গঙ্গাসাগর মেলা, বাংলা সঙ্গীত মেলা, বাংলা মোদের গর্ব, শ্রদ্ধাঞ্জলি, যাত্রা উৎসব, নাট্যমেলা, সবলা মেলা, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বিভিন্ন মেলা ও উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্‌যাপন করত পূর্বতন সরকার। বিভিন্ন নাটকের দলকে প্রতি বছর মোটা টাকা অনুদান দেওয়া হত। ছিল দুঃস্থ শিল্পীদের ভাতার ব্যবস্থাও। এই সব মেলা-উৎসবে শিল্পীদের ডাক পাওয়া কিংবা নাট্য দলগুলিকে অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে বার বার স্বজনপোষণের অভিযোগও উঠেছে। জেলাগুলির সঙ্গীতানুষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় যন্ত্রশিল্পীরা থাকা সত্ত্বেও কলকাতার শিল্পীদের একাংশের জন্য আলাদা করে বেশি সাম্মানিক দিয়ে কলকাতা থেকে যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। সরকারি নথি বলছে, বাংলা মোদের গর্ব নামে একটি অনুষ্ঠানে গত বছর ১২ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার এ বার কলকাতায় নজরুল জয়ন্তী পালন করেছে দেড় লক্ষের কিছু বেশি টাকায়। গত বছর যা ছিল ৫০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।

তথ্য-সংস্কৃতির জন্য ঢালাও বাজেট বরাদ্দ থাকলেও সরকারের বেশ কিছু দফতর প্রয়োজনীয় অর্থ পেত না বলে অভিযোগ। যেমন, সেচ, পূর্ত, সুন্দরবন উন্নয়ন তথা পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলি তাদের বাজেট বরাদ্দের পুরো টাকা পায়নি। এসেছে নামমাত্র অর্থ।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরে দেখা যাচ্ছে, তথ্য-সংস্কৃতি দফতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই রেখেছেন। জনমুখী পুরনো প্রকল্পগুলি তাঁর সরকার বন্ধ করবে না বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের তরফে বহু দুঃস্থ লোকশিল্পীকে স্বল্প পরিমাণ ভাতা দেওয়া হয়। মেলা-উৎসবের পিছনে অতিরিক্ত টাকা খরচ নিয়ে সমালোচনা হলেই আগের সরকারের যুক্তি ছিল, ওই আয়োজন থেকে বহু দরিদ্র মানুষের উপার্জন হয়। তবে, তার বাইরে মেলা-উৎসবের সাজসজ্জা, আলো, ধ্বনি, শিল্পীদের সাম্মানিক, বায়ো টয়লেট-সহ বিভিন্ন খাতে সরকারের খরচ কমানোর পথ খোলা রয়েছে বলেই আধিকারিকদের দাবি।

আরও পড়ুন