Prashanta Barman Detained

পথচারীকে ধাক্কা মেরে আটক হয়েও ভ্রুক্ষেপ নেই! রাতভর নিজেকে ‘প্রভাবশালী’ প্রমাণ করার চেষ্টা সেই প্রশান্তের

সোমবার রাতে নিউটাউনে এক পথচারীকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে প্রশান্তের বিরুদ্ধে। তাঁকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পরেও রাতভর নিজেকে ‘প্রভাবশালী’ হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখেননি প্রশান্ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১০:৩৩
প্রশান্ত বর্মণ।

প্রশান্ত বর্মণ। —ফাইল চিত্র।

পুলিশের হাতে আটক হয়েও ভ্রুক্ষেপ নেই। আপন মেজাজেই রয়েছেন সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। সোমবার রাতে নিউটাউনে এক পথচারীকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাঁকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পরেও রাতভর নিজেকে ‘প্রভাবশালী’ হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখেননি প্রশান্ত।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ি নিয়ে পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার সময় মত্ত অবস্থায় ছিলেন প্রশান্ত। অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন। তিনি মত্ত অবস্থায় আছেন কি না, তা যাচাই করতে ‘ব্রিদ অ্যানালাইজ়ার টেস্ট’ করতে চেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু প্রশান্ত রাজি হননি। জোরাজুরি করলে পুলিশকে তিনি ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। শেষমেশ ওই পরীক্ষা না-করিয়েই পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় তাঁকে।

পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময়েও অবাধ্য হন প্রশান্ত। গাড়ির মাঝের আসনে উঠে বসে পড়ার চেষ্টা করেন তিনি। অনেক চেষ্টার পরে তাঁকে গাড়ির পিছনের আসনে বসানো হয়। ভোরে প্রশান্তকে ইকো পার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশকর্মীদের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে গিয়েও থানাক আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি। আটক করার পর প্রশান্তের ফোন নিয়ে নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু থানায় গিয়েই সেই ফোন ফেরত চান তিনি। এমনকি রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের বক্তব্য, আটক হওয়ার পর থেকে প্রশান্তের সঙ্গে তুলনায় ‘সংযত’ আচরণ করেছে পুলিশ। এক জন অভিযুক্ত বার বার পুলিশের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার পরেও তাঁর প্রতি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলেও খবর। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশান্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই সূত্রের দাবি, এর পর কী করণীয়, তা জানতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ইকো পার্ক থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশের উপরমহল থেকে কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। তাই আপাতত স্বমেজাজে ইকো পার্ক থানাতেই রয়েছেন প্রশান্ত।

দীর্ঘ দিন ধরে প্রশান্ত ‘ফেরার’ ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। যদিও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে অনেকের দাবি। স্থানীয়দের দাবি, এর মাঝে বেশ কয়েক বার নিউটাউনের বাড়িতে প্রশান্তকে দেখা গিয়েছে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে তিনি তা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বিধাননগর আদালত। ওই অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ। তার পর থেকেই ‘ফেরার’ ছিলেন প্রশান্ত।

সোমবার নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় আচমকা প্রশান্তের গাড়ি প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। যেখানে ঘটনাটি ঘটে সেখানে কিছুটা দুরে একটি স্কুটার দাঁড় করানো ছিল। ওই ব্যক্তি ছিটকে এসে ওই স্কুটার আরোহীর গায়ে গিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ওই ব্যক্তির পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। স্কুটার আরোহী প্রশান্তের গাড়ি আটকান। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় প্রশান্তকে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। তার পরেই ‘ফেরার’ প্রশান্তকে আটক করা হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন