—প্রতীকী ছবি।
কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার করতে শহর জুড়ে ক্লোজ়ড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর দাবি উঠল পুর-প্রতিনিধিদের তরফে। ভোট পর্ব শেষ হতেই মাসের শেষ দিনে আয়োজিত অধিবেশনে ১২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রূপক গঙ্গোপাধ্যায় বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘‘পুরসভা জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের মতো নাগরিক পরিষেবায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলেও বর্তমান সময়ে নাগরিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।’’ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে শহরকে নিরাপদ করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নজরদারি ব্যবস্থাকে উন্নত করা প্রয়োজন।
কাউন্সিলরের প্রস্তাবে বলা হয়, ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে সিসিটিভি বসিয়েছে, যা যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনার তদন্তে সহায়ক হয়েছে। এ বার সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে প্রতিটি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা—চৌমাথা, বাজার এলাকা, স্কুল-কলেজের আশপাশ, পার্ক ও জনবহুল রাস্তায় উচ্চমানের সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দেন তিনি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। প্রথমত, প্রতিটি ওয়ার্ডের স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে ক্যামেরা বসিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও পুরসভার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দেন। তৃতীয়ত, সরকারি অনুদান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এতে কলকাতাকে একটি স্মার্ট ও নিরাপদ শহর হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, জাতীয় অপরাধ নথিভুক্তি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী কলকাতা দেশের অন্যতম নিরাপদ শহর। তবুও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বহু সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বসানো হবে। উদাহরণ হিসাবে বিশ্বের উন্নত শহর যেমন লন্ডন , নিউইয়র্ক, এবং সিঙ্গাপুরের কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে বিস্তৃত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক অপরাধ দমন ও জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে অনেক বেশি কার্যকর করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ কলকাতাতেও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কাউন্সিলর রূপকের এই প্রস্তাবকে সমর্থন করে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ বলেন, ‘‘যে কোনও আধুনিক ও প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত শহরে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি এখন বাধ্যতামূলক বিষয়। তাই আমাদের সতীর্থ রূপক পুর অধিবেশনে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা আমরা পুরোপুরি সমর্থন করছি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।’’