Indian Statistical Institute's Tree felling controversy

আনন্দবাজার ডট কম-এর খবরের জের! কলকাতার আইএসআই ক্যাম্পাসে গাছ কাটা বন্ধ করতে এ বার নির্দেশ দিল বন দফতর

বন দফতরের কড়া পদক্ষেপের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আইএসআই ক্যাম্পাসের শিক্ষক, কর্মী এবং আধিকারিকদের একাংশ। এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে যে ভাবে ক্যাম্পাসে বৃক্ষনিধন যজ্ঞ চলেছে, তা চোখে দেখা যায় না।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৭
আনন্দবাজার ডট কম-এ আইএসআই ক্যাম্পাসের গাছ কাটা সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই তৎপর বন দফতর।

আনন্দবাজার ডট কম-এ আইএসআই ক্যাম্পাসের গাছ কাটা সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই তৎপর বন দফতর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (আইএসআই) ক্যাম্পাসে গাছ কাটা বন্ধ করে দিল বন দফতর। মঙ্গলবার আনন্দবাজার ডট কমে প্রথম আইএসআই ক্যাম্পাসে অবাধে বৃক্ষচ্ছেদনের খবর প্রকাশিত হয়। সেই খবর পাওয়ার পরে বিস্ময় প্রকাশ করে বন দফতরের কাছে এই সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। পাশাপাশি, এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন পর্ষদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আদি সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত। বুধবার তিনি এই সংক্রান্ত বিষয় জবাবদিহি তলব করেছিলেন উন্নয়ন পর্ষদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিপান কুমার সুদের কাছে। তার পরেই উদ্যোগী হয়ে ওই বিভাগের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। আনন্দবজার ডট কম-এ প্রথম এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তার পরই পদক্ষেপ করলেন ডিএফও।

Advertisement

বন দফতরের এমন কড়া পদক্ষেপের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষক, কর্মী এবং আধিকারিকদের একাংশ। এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে যে ভাবে ক্যাম্পাসে বৃক্ষনিধন যজ্ঞ চলেছে, তা চোখে দেখা যায় না। তাই আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকর্তা (ডিরেক্টর) অয়নেন্দ্রনাথ বসুকে প্রতিবাদপত্র দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও খুব বেশি লাভ হয়নি, কিন্তু বন দফতর উদ্যোগী হয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা খুশি।’’ তবে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তাদের ব্যাখ্যা ছিল, গত ডিসেম্বরে বন দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই গাছ কাটার কাজ শুরু হয়। ইনস্টিটিউটের অন্দরে ৬৫টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে নাকি ১২ গাছ ‘মৃত’ হওয়ার কারণে কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাস সূত্রে খবর, যে সব গাছ ইতিমধ্যেই কাটা হয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগ গাছই ছিল তারতাজা এবং সজীব।

তবে ক্যাম্পাসের প্রতিবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বন দফতরের অনুমতি নিয়েই গাছগুলি কাটা হয়, তা হলে তা প্রতিবাদ হওয়ার পর আচমকা তা বন্ধ করে দেওয়া হল কেন? এই বিষয়ে অবশ্য ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি। তবে বন দফতর সূত্রে খবর, বরাহনগরের কাছে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্থায় কী ভাবে এত সংখ্যক গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে জবাব তলব করা হবে। বন দফতর সূত্রে খবর, এ বিষয়ে দফতরের প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছেন বেশ কিছু শীর্ষ আধিকারিক। বর্তমান গাছ কাটা নিয়ে বেজায় চাপে ৯৪ বছরের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইএসআই-এর শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।

গাছ কাটা বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে পর্ষদের চেয়ারম্যান তপন বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই রেয়াত করা যাবে না। আমি কড়া ভাষায় আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, আইএসআই ক্যাম্পাসে গাছ কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছ কাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এমন ঘটনা যাতে আর কখনও না ঘটে, সেই বিষয়ে আধিকারিকদের সজাগ থাকতে বলেছি। পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, তাই গাছ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই কথা দফতরের আধিকারিকেরা যেন সব সময় মনে রাখেন, এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন