—প্রতীকী চিত্র।
দু’টি শিক্ষক সংগঠনের বিক্ষোভ আন্দোলন ঘিরে বৃহস্পতিবার সাময়িক উত্তেজনা ছড়াল মধ্য কলকাতায়। এ দিন এক দিকে বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন সরকারি স্কুলে কর্মরত বৃত্তিমূলক বিষয়ক ‘ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ (এনএসকিউএফ)-এর শিক্ষকেরা। অন্য দিকে, একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে নবান্ন অভিযানে শামিল হয়েছিলেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আনএডেড মাদ্রাসা’-র সদস্যেরা।
এনএসকিউএফ-এর শিক্ষকদের মূল দাবি ছিল, কোনও সংস্থার মাধ্যমে নয়, তাঁদের শিক্ষা দফতরের আওতায় এনে বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। এ দিন অভিযানের শুরুতে এই শিক্ষকেরা শিয়ালদহে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান। পরে তাঁরা মিছিল শুরু করেন বিধানসভার উদ্দেশে। তবে, ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কাছে পুলিশ মিছিলকারীদের আটকে দেয়।
এক এনএসকিউএফ শিক্ষিকা শ্রেয়া চৌধুরী জানান, তাঁরা আগে শিক্ষা দফতরের অধীনেই ছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে তাঁদের কারিগরি শিক্ষা দফতরের আওতায় আনা হয়। এই শিক্ষকদের নিয়োগ হয় বাইরের সংস্থার মাধ্যমে। শ্রেয়া বলেন, ‘‘আমরা সরাসরি শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের বেতন বহু বছর বাড়েনি। বেতন বাড়াতে হবে। অনেকের বেতন গত ছ’মাস ধরে বন্ধ।’’ তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে বর্তমানে পড়াচ্ছেন ৩২২২ জন এনএসকিউএফ শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁরা নবম-দশমে ঐচ্ছিক বৃত্তিমূলক পাঠক্রম ও একাদশ-দ্বাদশে কম্পালসারি ইলেক্টিভ বৃত্তিমূলক পাঠক্রম পড়ান।
অন্য দিকে, এ দিন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আনএডেড মাদ্রাসা’র নবান্ন অভিযান ঘিরে ধর্মতলায় উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিল শিয়ালদহ থেকে এস এন ব্যানার্জি রোড ধরে এগোচ্ছিল। কলকাতা পুরসভার সামনে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের জোর করে ভ্যানে তুলে লালবাজারে লক-আপে পাঠিয়েছে।
এই সংগঠনের শিক্ষকেরা তাঁদের সাম্মানিক ভাতা বৃদ্ধির দাবি তোলেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বেশির ভাগ আনএডেড মাদ্রাসার পড়ুয়ারা সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মতো সুযোগ-সুবিধা পায় না। অবিলম্বে তাদের সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের সমতুল যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। শিক্ষকেরা জানান, গত ৫০ দিন ধরে তাঁরা সল্টলেকে সিটি সেন্টার মেট্রো স্টেশনের কারশেডের পাশে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়েছেন।