TMC councillor Arrested

জোড়াসাঁকোয় কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে তুলেই নিয়ে গেল পুলিশ! ছোট লালবাড়িতে আবার ধাক্কা

জোড়াসাঁকোয় ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে রবিবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ভোর থেকে তাঁর বাড়িতে পুলিশ ছিল। কিন্তু তিনি দরজা খোলেননি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ১২:১৮
৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন।

৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন। ছবি: ফেসবুক।

কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলর পুলিশের জালে। জোড়াসাঁকোয় ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভোর থেকে তাঁর বাড়িতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। অভিযোগ, তৃণমূল নেতা দরজাই খুলছিলেন না। দীর্ঘ প্রায় ছ’ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাইরে থেকে তালা খুলে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। জসিমউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে থানায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। পাল্টা ডিম হাতে বিজেপি সমর্থকেরাও বিক্ষোভে শামিল হন।

Advertisement

জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন বছর আগে এলাকার এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় জসিমুদ্দিনের ঘনিষ্ঠদের নাম জড়িয়েছিল। সেই নাবালিকা এখন কলেজছাত্রী। শনিবার তাঁকে ফের হেনস্থা করা হয়। পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। তার পরেই থানায় ফের অভিযোগ জানান তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা। রাতে সেই ঘটনায় জসিমউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউন্সিলর-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। বেআইনি কাজ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, সম্মতি ছাড়া নির্যাতিতার নাম বা পরিচয় প্রকাশ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে এফআইআর রুজু হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

রবিবার ভোর ৬টা নাগাদ জসিমউদ্দিনের বাড়ির সামনে পৌঁছে গিয়েছিল জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই বাড়ি ঘিরে ছিল। অভিযোগ, ভিতর থেকে বাড়ির কোলাপসিব্‌ল গেট তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল। পুলিশের ডাকাডাকি সত্ত্বেও কেউ দরজা খোলেননি। বেলার দিকে চাবি তৈরির লোক ডাকা হয় ঘটনাস্থলে। এর পর দরজা খুলে কাউন্সিলরকে বার করে আনা হয়। বাইরে তত ক্ষণে অনেকে জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কাউন্সিলরের অনুগামীদের পাশাপাশি ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরাও। অনেকে ডিম ছুড়বেন বলে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি থেকে বার করেই জসিমউদ্দিনকে গাড়িতে তোলা হয়। ডিম ছোড়ার সুযোগ কেউ পাননি।

মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বার করছে পুলিশ। রবিবার।

মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বার করছে পুলিশ। রবিবার। —নিজস্ব চিত্র।

জসিমউদ্দিন আগে সিপিএমে ছিলেন। ২০১৫ সালে পুরভোটের আগে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। পর পর দু’বার ভোটে জিতেছেন জোড়াফুলের টিকিটে। তৃণমূল সূত্রে খবর, তিনি প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্তর সহযোগী ছিলেন। তাঁকেই অনুসরণ করতেন। আর কাউকে পরোয়া করতেন না বলে অভিযোগ। তা নিয়ে জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেও একাংশে অসন্তোষ ছিল। ২০২৬ সালের ভোটে জোড়াসাঁকো থেকে টিকিট পাননি বিবেক। তার পর থেকে জসিমউদ্দিনও কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে ঘিরে অসন্তোষ বাড়ে। এ বার সেই কাউন্সিলরই পুলিশের জালে।

কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলর শনিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পাটুলি থেকে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আগে বিজেপি করলেও ২০১০ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তৃণমূল কাউন্সিলরদের মুখ্য সচেতক পদেও ছিলেন বাপ্পাদিত্য। এ বার ধরা পড়লেন জসিমউদ্দিনের নামও।

Advertisement
আরও পড়ুন