লালবাজার। —ফাইল চিত্র।
ভোটের দিন বা তার আগে প্রচার চলাকালীন এ রাজ্যে রাজনৈতিক গোলমাল, হিংসাত্মক কার্যকলাপ কোনও নতুন ঘটনা নয়। বিধানসভা হোক কিংবা লোকসভা নির্বাচন, এ রাজ্যের পরম্পরা হিসেবে রাজনৈতিক গোলমাল লেগেই থাকে। সেই গোলমালকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হল থানাগুলির কাছ থেকে। সেই সঙ্গে বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ওই গোলমালকারীদের নামের তালিকাও জানতে চেয়েছে কলকাতা পুলিশের নির্বাচনী সেল।
পুলিশ সূত্রের খবর, লালবাজারের তরফে পাঠানো নির্দিষ্ট ফরম্যাটে নির্বাচন এবং অন্য সময়ে গোলমালে যুক্তদের নাম-ঠিকানা জানাতে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভোট সংক্রান্ত যে গোলমাল হয়েছে, তার চার্জশিট জমা দেওয়া হলে তাতে নাম থাকা অভিযুক্তদের নামের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, লাগাতার একাধিক গোলমালের সঙ্গে যুক্তদের নামের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে লালবাজারের তরফে। এক পুলিশকর্তা জানান, গত দু’বছরে অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন, জাল নোটের মামলা, বেআইনি মদ উদ্ধার, রাজনৈতিক হিংসা, সাম্প্রদায়িক গোলমালের ঘটনা ঘটলে তার চার্জশিটে অভিযুক্তদের নামের তালিকাও পাঠাতে বলা হয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, এর সঙ্গেই দাগি অপরাধী বা গোলমালকারীদের বিরুদ্ধে মুচলেকা বা আদালতের কাছে কোনও মুচলেকা দেওয়া হয়েছে কিনা, ও কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেই তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত পাঁচটি নির্বাচন অর্থাৎ ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটগ্রহণের দিন গোলমালকে কেন্দ্র করে যেসব মামলা রুজু হয়েছিল সেগুলির বর্তমানে কী অবস্থা, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছিল থানার কাছে। ওই মামলাগুলির তদন্ত চলছে নাকি চার্জশিট জমা পড়েছে আদালতে, সেই তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে থানাগুলির কাছে। পাশাপাশি, চার্জশিট জমা দেওয়ার পরে মামলার বিচার শেষ হয়েছে কিনা, অথবা বিচার শেষে অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা হয়েছে নাকি অভিযুক্ত খালাস হয়ে গিয়েছে, সবই জানাতে বলা হয়েছিল।
প্রাথমিক ভাবে প্রতি বছরই নির্বাচনের আগে দাগী অপরাধী ও গোলমালকারীদের তালিকা তৈরি করা হয়। তার পরেও ভাঙড়ের মতো কিছু এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা থেকে গোলমাল লেগেই থাকে। পুলিশের একাংশের মতে, শুধু তালিকা তৈরি না করে তাদের উপরে কঠোর নজরদারি চালানো হলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিতে শেষ হতে পারে।