Madan Mitra in Municipality Recruitment Scam

১২৫টির বেশি বেআইনি চাকরি! ঘুষ হিসাবে সোনাদানাও নেন মদন, পুরসভা দুর্নীতিতে কী কী অভিযোগ ইডি-র? কেন তল্লাশি

ইডি সূত্রে দাবি, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে মদনের ভূমিকা খতিয়ে দেখাই শনিবারের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। কামারহাটি-সহ একাধিক পুরসভায় বিভিন্ন পদে অযোগ্যদের নিয়োগের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন মদন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১০:০৮
কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।

কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। —ফাইল চিত্র।

পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের সূত্রে শনিবার সকাল থেকে কলকাতা ও শহরতলির মোট সাতটি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চলছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রের খবর, মদনের বিরুদ্ধে একাধিক পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবর্তে তিনি ঘুষও নিয়েছেন বলেও অভিযোগ। সেই তদন্তের সূত্রেই শনিবারের তল্লাশি অভিযান।

Advertisement

ইডি সূত্রে দাবি, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে মদনের ভূমিকা খতিয়ে দেখাই শনিবারের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। কামারহাটি-সহ একাধিক পুরসভায় বিভিন্ন পদে বেআইনি ভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন মদন। অভিযোগ, তার জন্য ঘুষ নিয়েছিলেন কখনও নগদ টাকায়, কখনও আবার সোনাদানার মাধ্যমে। তবে মদন সরাসরি এই ঘুষ নেননি বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। ঘুষ তাঁর কাছে পৌঁছে যেত ‘মিডলম্যান’দের মাধ্যমে। তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি জানতে পেরেছে, পুরসভায় ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে মদনের যোগ রয়েছে।

ভবানীপুরে মদনের বাড়ি এবং দফতরে শনিবার তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া, কামারহাটি, দক্ষিণেশ্বর, বেলেঘাটা, জোকা এবং বেহালাতেও ইডি গিয়েছে। শুধু কামারহাটি পুরসভা নয়, অন্য পুরসভাগুলিতেও মদনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০১১ সালে তিনি প্রথম বার কামারহাটির বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পর ২০২১ এবং ২০২৬ সালে ওই কেন্দ্রেই জিতেছেন। ফলে কামারহাটিতে দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর প্রভাব রয়েছে। সেই প্রভাব বেআইনি নিয়োগে তিনি খাটিয়েছিলেন কি না, দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁর সূত্র ধরেই পুরসভায় দুর্নীতির বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, পুরসভায় দেদার চাকরি বিক্রি হয়েছে ঘুষের বিনিময়ে। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা কোনও চাকরি পাননি। অয়নের সল্টলেকের দফতর থেকে এই সংক্রান্ত উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট উদ্ধার করেছিল সিবিআই। এখন সেই মামলার তদন্ত করছে ইডি-ও। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে হেনস্থার অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাত থেকে সরব হয়েছেন মদন। প্রতিবাদ হিসাবে ওই পুরসভার সকল কাউন্সিলরকে একযোগে তিনি পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে পুরসভায় ফের তৃণমূলের পতাকা ওড়াবেন। তার মধ্যেই তাঁর বাড়িতে পুরনিয়োগ দুর্নীতির সূত্র খুঁজতে গেল ইডি।

Advertisement
আরও পড়ুন