মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী অগস্ট মাসেই সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হবে। তবে প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে রাজ্যের আদিবাসী, মূলবাসী, কুড়মি এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রাচীন জনজাতি সম্প্রদায়কে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের মডেল অনুসরণ করেই এই ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য আনা হবে। বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাতের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন চালু থাকার পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একটিই আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ইউসিসি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।’’ তিনি আরও বলেন, “আমরা কমিটেড। সংকল্পপত্রে যা লিখেছি তা বাস্তবায়ন করব। পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে।”
রাজ্য সরকারের ঘোষিত কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই। এ ছাড়াও কমিটিতে এক জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, এক জন আইন বিশেষজ্ঞ, এক জন শিক্ষাবিদ, এক জন সমাজকর্মী এবং রাজ্য সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক জন অতিরিক্ত সচিব সদস্য হিসাবে থাকবেন। প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ওই অতিরিক্ত সচিবই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কাজের পরিধিও সোমবার বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালাবে কমিটি। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে তারা। এ ছাড়াও সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।
মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির সময় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়কেরা ইউসিসি বিলের বিরোধিতা করে স্লোগান তোলেন। সেই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কারও কোনও আপত্তি বা মতামত থাকলে তা সরাসরি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাছে জমা দেওয়া যেতে পারে।’’ তিনি আশ্বাস দেন, সমস্ত মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি হবে। শেষে শুভেন্দু অধিকারী ফের স্পষ্ট জানান, ইউসিসি কার্যকর করার বিষয়ে সরকার কোনও ভাবেই পিছিয়ে আসবে না। তাঁর কথায়, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে, হবে এবং হবেই।”