মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘাতকে সাময়িক ভাবে পাশে সরিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা যৌথ চিঠিতে সই করার সম্ভাবনা রয়েছে ডিএমকে এবং আপ-এর। রাজনৈতিক সূত্রের খবর,তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছেন। আগামী দু'তিন দিনের মধ্যেই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে প্রধান বিচারপতির কাছে।
তিন সপ্তাহ আগে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া শিবিরের ২৩টি বিরোধী দল বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেয় ‘ভোট-চুরি’, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘কারচুপির’ অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া হবে। সে সময় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিপুল পরাজয়ের ক্ষত ছিল টাটকা। দলের সিংহভাগ বিধায়ক, সাংসদ এবং পুরপ্রতিনিধিরা বেরিয়ে যাওয়ার পর দৃশ্যতই নিঃস্ব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’র মঞ্চকে যতটা সম্ভব রাজনৈতিক পুনর্জন্মের জন্য ব্যবহার করতে সক্রিয় হয়েছিলেন। সেই চেষ্টা তিনি ছাড়েননি।
সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবারের আগেই ‘ইন্ডিয়া’র সমস্ত দলের নেতাদের সই সম্বলিত চিঠি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে পাঠানো হবে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস যেহেতু ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন অথবা আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়ালের সঙ্গে কথা বলার মতো সম্পর্কেও নেই, মমতাই উদ্যোগী হয়েছেন তাঁদের বিরোধী মঞ্চে ধরে রাখার জন্য। কেজরীওয়াল দিল্লিতে মমতার সঙ্গে দেখাও করেছিলেন গত ৭ জুন। ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের এক কর্তা জানাচ্ছেন, এই চিঠি যাবে ‘ইন্ডিয়া’এবং আরও দুই বিরোধী দলের (ডিএমকে, আপ) পক্ষ থেকে। অর্থাৎ বিরোধী রাজনীতিতে আগামী দিনে ‘ইন্ডিয়া প্লাস টু’-এর মডেলটি দেখা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ৫৫ বছরের দীর্ঘ জোট ভেঙে ডিএমকে-র সঙ্গ ত্যাগ করেছে কংগ্রেস। তারা অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। গোটা ঘটনা থেকে রাজনৈতিক লাভ তোলার জন্য সক্রিয় বিজেপি। ফলে এই চিঠিতে ডিএমকে-র সই থাকলে তা ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘ইন্ডিয়া’-র অন্তর্ভুক্ত দলগুলি দু’মাস অন্তর বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরের বৈঠকটি হওয়ার কথা অগস্ট মাসে, হায়দরাবাদে। তার আগে সংসদের বাদল অধিবেশন। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন কক্ষ সমন্বয়ের জন্য প্রতিদিন বৈঠকে বসবেন বিরোধী সাংসদেরা। তৃণমূলের এক নেতার দাবি, এর আগে পটনা, বেঙ্গালুরু, মুম্বই দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠক হয়েছে। ২০২৩-এর শেষে দিল্লির বৈঠকের পর দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়েছিল। এ বার তা শুধু কাটিয়ে ওঠাই নয়, ২০২৯ লোকসভা ভোট পর্যন্ত লাগাতার এই সমন্বয় আরও মজবুত করার কাজ হবে। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, ‘‘এই প্রথম প্রতিটি বিরোধী দলের যৌথ ভাবে সই করা একটি বিবৃতি (চিঠি) আমরা তুলে ধরছি। এটা এর আগে কখনও হয়নি।’’
সূত্রের খবর, একমাত্র কংগ্রেসের দু’জন নেতা (মল্লিকার্জুন খড়্গে, রাহুল গান্ধী) এতে সই করবেন। এ ছাড়া তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এসপি-র অখিলেশ যাদব, জেএমএম নেতা তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন, এনসি নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরেরা সই করছেন। কেরল ভোটের পর সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত হয়েছিল। কিন্তু বিবাদ ভুলে প্রত্যেকটি বাম দলের পক্ষ থেকেই সই থাকছে।