রুহুলের আত্মীয়দের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এখন ইডি-র আতশকাচের তলায়। নিজস্ব চিত্র।
জমি-বাড়ি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের মামলায় ইডি হেফাজতে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসাবে চিহ্নিত কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর রুহুল আমিন আলির বাড়িতেও সম্প্রতি ইডি আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চালিয়েছেন। রুহুল কাঁথির ছেলে। তাঁর এক আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। আর সেই খবর শুনে আশ্চর্য হচ্ছেন কাঁথির গিমাগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
তৃণমূল জমানায় ‘প্রভাবশালী’ অফিসার ছিলেন রুহুল। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ অন্যতম কর্তা ছিলেন তিনি। তাঁর আদি বাড়ি কাঁথি শহর লাগোয়া গিমাগেড়িয়া-য়। দুর্নীতির মামলায় পুলিশ কর্তা শান্তনুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর ইডি-র স্ক্যানারে রয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন। গত সপ্তাহে তাঁর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। তারপর বুধবার রুহুলের এক আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। কাঁথির বাসিন্দা ওই আত্মীয় পেশায় ব্যবসায়ী। একই গ্রামে তাঁর বাড়ি।
সূত্রের খবর, তদন্তে জানা গিয়েছে, রুহুলের মাধ্যমে কিছু টাকা ওই ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ইডি আধিকারিকদের দাবি, রুহুলের একাধিক আত্মীয়ের মালিকানায় গিমাগেড়িয়া এলাকায় বেসিক কলেজ, বিএড কলেজ, মাদ্রাসা রয়েছে। ওই সব প্রতিষ্ঠানে রুহুল বা শান্তনুর টাকা রয়েছে কিনা, খুঁজে দেখা হচ্ছে। বেসিক কলেজ এবং মাদ্রাসা চলে একই জায়গায়। বুধবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, গোটা এলাকা ফাঁকা। উল্টো দিকে স্কুল পরিদর্শকের অফিসে দু’-এক জন দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেসিক কলেজের গেটের ধারে উচ্চ বাতিস্তম্ভের নীচে পাথরের ফলকে লেখা রয়েছে, ‘সাংসদ শিশির অধিকারীর এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থে এই বাতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।’ পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে দিঘা-তমলুক রেললাইন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, রুহুল এলাকায় খুব একটা আসেন না। মহরমের পরে গ্রামে মেলা বসে। তখন সপরিবারে আসেন। মাঝেমধ্যে ইদে বা পারিবারিক উৎসবেও তিনি সপরিবারে এসেছেন। রুহুলের বাবা বাম জমানায় এলাকায় সিপিএমের গ্রাম প্রধান ছিলেন। গাড়ির ব্যবসা ছিল। রুহুলেরা চার ভাই এবং পাঁচ বোন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বললেন,"উনি পাড়ায় বাপিদা নামে পরিচিত। ভাল মানুষ। ছুটিতে বাড়ি এলে সকলের খোঁজ নিতেন। আগে কখনও বিতর্কে জড়াননি। শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের সঙ্গে কী করে নাম জড়াল, বুঝতে পারছি না।"
রুহুলের আত্মীয়দের নামে থাকা বেসিক কলেজ ২০০২ সাল থেকে চলছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, প্রথম থেকে ট্রাস্টের মাধ্যমে এই কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। পুরোটাই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চলছে। তবে যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।