Digha Tourist death

স্পিড বোটের ধাক্কায় পর্যটকের মৃত্যু, প্রশ্ন

স্থানীয় সূত্রের খবর, সপ্তাহ শেষের ছুটিতে শনিবার ওল্ড দিঘার স্নান ঘাটগুলিতে ভালই ভিড় ছিল। দুপুরে সি হক ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন বাপন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৭:০৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সপ্তাহান্তের ছুটিতে পূর্ব বর্ধমান থেকে এসেছিলেন দিঘায়। শনিবার সি হক ঘাটে সমুদ্রে স্নান করতে নেমেছিলেন। সে সময় স্পিড বোট এসে তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। আর তাতেই মারা গেলেন বাপন শেখ নামে এক পর্যটক। অভিযোগ, ধাক্কা মেরে স্পিডবোট চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এর পরেই স্নান ঘাট সংলগ্ন সমুদ্রে স্পিড বোট চালানো এবং দিঘায় এই ধরনের ‘ওয়াটার অ্যাডঞ্চার স্পোর্টসে’র পরিষেবা প্রশ্নের মুখে।

মৃত বাপনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানা এলাকার ঘাটশিলার মণ্ডল পাড়ায়। তিনি পেশায় টোটো চালাক বিবাহিত। তাঁর বৌদি নাসেরা বেগম জানিয়েছেন, আটাগড় থেকে দিঘার দুটি বাস ছাড়ে। তাতেই বন্ধুদের সঙ্গে বাপন দিঘা আসেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সপ্তাহ শেষের ছুটিতে শনিবার ওল্ড দিঘার স্নান ঘাটগুলিতে ভালই ভিড় ছিল। দুপুরে সি হক ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন বাপন। সে সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি স্পিডবোট তাঁকে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাপনের উপর দিয়ে বোট চালিয়ে নিয়ে যান চালক। এতে তাঁর পা এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। বাপনকে উদ্ধার করে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই সবের মাঝে স্পিডবোট রেখে পালিয়ে যান চালক। খবর পেয়ে দিঘা মোহনা থানার পুলিশ গিয়ে বোটটি বাজেয়াপ্ত করে। বাপনের সঙ্গে আসা ওয়াসিম হাসান মল্লিক নামে এক যুবক বলছেন, ‘‘এ দিন সকালেই এসেছিলাম। বাপন স্নান করতে নেমেছিলেন। সে সময় একেবারে পর্যটকদের গা ঘেঁষে জোরে ছুটছিল বোট। দুর্ঘটনার পরে চালক বোট ছেড়ে পালিয়ে যান।’’

উল্লেখ্য, এ বছর ফেব্রুয়ারিতে উদয়পুরের কাছে স্পিড বোটের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন দুই পর্যটক। বিপত্তি এর আগেও হয়েছে। মাঝ সমুদ্রে পর্যটকদের নিয়ে বিকল হয়েছে বোট। বারবার এমন ঘটনা সামনে আসায় পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্ন নিয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, দিঘা এবং মন্দারমণিতে মোট পাঁচটি সংস্থা ‘ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস’ পরিষেবা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, যেখানে পর্যটকরা স্নান করেন, সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্পিড বোট চালাতে হয়। কিন্তু দিঘায় এর উল্টো ছবি। বোট চলার সীমানা নিয়ে কোনও সতর্কীকরণবোর্ডও নেই।

বোট চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সংস্থার নির্দিষ্ট শংসাপত্র রয়েছে কি না, সুরক্ষার জন্য কী পরিকাঠামো রয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময় অন্তর খতিয়ে দেখতে হয়। এ সবের দায়িত্বে রয়েছে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ। পর্ষদের একটি সূত্রের খবর, তাদের কাছে এ সব করার পরিকাঠামোই নেই। কয়েক মাস আগে মোটর ভেহিকেলস দফতরকে দিয়ে জলযানগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে উদ্যোগী হয়েছিল মহকুমা প্রশাসনে। তার বাস্তবায়ন হয়নি।

এ দিনের পর্যটকের মৃত্যুর পরে আপাতত দিঘা, মন্দারমণিতে যাবতীয় ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বন্ধ রাখা হচ্ছে। পর্ষদ জানাচ্ছে, পুলিশকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আর জেলার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড ট্রেনিং) মোহিত মোল্লা বলেন, ‘‘মৃতের পরিবারের তরফে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত চলবে।’’

আরও পড়ুন