Cooperative Election at Nandigram

শুভেন্দুর নন্দীগ্রামে ৭ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় সমবায়ে জয় তৃণমূলের! অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’কেই কৃতিত্ব দিচ্ছে দল

নন্দীগ্রামের রানিপুর সমবায় সমিতির মোট ৪৫টি আসনের পাঁচটিতে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে তৃণমূল। বাকি ৪০টি আসনে তৃণমূল এবং বিজেপি লড়াই করেছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬
(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নন্দীগ্রামে আবার বিজয়ী তৃণমূল। আমদাবাদের সমবায় সমিতির ভোটে জেতার সাত দিন পর রানিপুর সমবায় সমিতিতেও পরাজিত হল বিজেপি। রবিবার বিকেল থেকে সবুজ আবির উড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের ওই এলাকায়। শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় সমবায় সমিতি বিজয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।

Advertisement

রানিপুর সমবায় সমিতির মোট ৪৫টি আসনের পাঁচটিতে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে তৃণমূল। বাকি ৪০টি আসনে লড়াই করছিল রাজ্যের শাসক এবং প্রধান বিরোধী দল। শেষমেশ এই নির্বাচনেও শুভেন্দুর বিধানসভায় পরাজিত হয়েছে বিজেপি। ৪৫-এর মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ২৭টি আসন, বিজেপি ১৮টি।

সমবায় সমিতির ভোট হলেও তৃণমূলের কাছে এই জয় সাধারণ নির্বাচনের মতো বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। সেটা মূলত দুটো কারণে। প্রথমত, নন্দীগ্রামের বিধায়ক রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যাঁর বিরুদ্ধে গত বিধানসভা ভোটে প্রার্থী ছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের মাস কয়েক আগে তৃণমূলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুভেন্দুর ‘গড়ে’ সূচনা হয়েছে সেবাশ্রয় প্রকল্পের। তৃণমূলের দাবি, এই চিকিৎসা পরিষেবা কর্মসূচিতে ‘অপ্রত্যাশিত সাড়া’ মিলেছে। তার ফল সমবায় ভোটেও পড়ছে। তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ‘‘আমদাবাদ-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ভারতীয় জনতা পার্টির দখলে। যেখানে এ বারের লোকসভা ভোটেও বিজেপি এগিয়ে ছিল, সেখানকার মানুষ আজ তৃণমূল মনোনীত প্রার্থীদের জয়যুক্ত করেছেন!’’ সুজিতের সংযোজন, ‘‘এই নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, সাত দিন আগে আমদাবাদ সমবায় হাতছাড়া হওয়ার পরে এই সমবায়ে জয় পেতে মরিয়া ছিল বিজেপি। সে জন্য শনিবার রাত থেকে এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে তারা। তৃণমূলের বেশ কয়েক জন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। শুভেন্দুর দলের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও ভোটাররা তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন।

জয়ের শংসাপত্র হাতে প্রার্থীরা।

জয়ের শংসাপত্র হাতে প্রার্থীরা। — নিজস্ব চিত্র

বস্তুত, সমবায় সমিতির ভোট ঘিরে শাসক-বিরোধীর দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে শনিবার রাত থেকেই। তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রানিপুর। তৃণমূল অভিযোগ করে তাদের প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। পাল্টা তৃণমূলকে ওই একই অভিযোগ অভিযুক্ত করেছে বিজেপি। দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জনের জখম হওয়ার খবর মিলেছে।

রবিবার ওই ভোট ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতর যখন তুঙ্গে, তখন শুভেন্দু ছিলেন পার্শ্ববর্তী এলাকা হরিপুরে। দলীয় কার্যালয়ে বেশ কিছু ক্ষণ কাটিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। তৃণমূলের দাবি, শুভেন্দু সেখান থেকে সমবায় সমিতির নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করে গিয়েছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। বিজেপি ওই দাবি নস্যাৎ করে দেয়। পদ্মশিবিরের ব্যাখ্যা, একটি সমবায় ভোটে নাক গলানোর মতো সময় বিরোধী দলনেতার নেই। তিনি হরিপুরে গিয়েছিলেন দলীয় কাজে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল তাঁর। পাশাপাশিই, রানিপুর সমবায়ে সমিতিতে পরাজয় নিয়ে তাদের ‘গ্লানি’ নেই বলে দাবি করেছে তারা। বিজেপি নেতা প্রলয় পালের কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূল লাজলজ্জার মাথা খেয়েছে। তাই এ সব ভুলভাল কথা বলছে। যে সমবায় সমিতিতে জয় নিয়ে ওরা লাফালাফি করছে, সেটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। সেখানকার প্রায় ১০০ শতাংশ বাসিন্দাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তার পরেও আমরা ১৮টি আসনে জয়লাভ করেছি। এটা বিজেপির কাছে নৈতিক জয়।’’

বিকেলে নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় শিবিরের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল নেতারা বার বার ভোটের ফল জানতে চেয়ে ফোন করেছেন রানিপুরে। পৌনে ৪টে নাগাদ তৃণমূলের এক ‘প্রভাবশালী’ নেতা ছিলেন সেবাশ্রয় শিবিরে। ফল জানার জন্য তিনি ফোন করেছিলেন রানিপুরে দলের আর এক নেতাকে। সেই নেতা জানান, বিজেপি ৩০টি আসনে জয়ী হয়েছে। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। ধমকের সুরে তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘কী যা-তা বলছিস? সেবাশ্রয়ে এসে কানটা দেখিয়ে যা একবার।’’ পরে রানিপুর থেকে ওই নেতা জানান, তাঁর শুনতে ভুল হয়েছিল। ফলাফল আসলে ২৭-১৮। সেবাশ্রয়ের শিবিরে বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হেসে ফেলেন তৃণমূলের সেই প্রভাবশালী। বললেন, ‘‘যাক, এ যাত্রা তোকে আর সেবাশ্রয়ে আসতে হচ্ছে না।’’

Advertisement
আরও পড়ুন