পুত্র শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নাম না করে তৃণমূলকে নিশানা বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারীর। —নিজস্ব চিত্র।
২০২১ সালে বিজেপি সরকার গড়তে পারত পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু ভোটলুট হয়েছিল। তা-ই রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতায় আসতে আরও ৫ বছর সময় লাগল বিজেপির। আগেই মুখ্যমন্ত্রী হতেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পুত্র মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। তৃণমূলত্যাগী শিশিরের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটচুরি করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুর শপথগ্রহণে উপস্থিত ছিলেন বাবা শিশির, ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী এবং তাঁর স্ত্রী সুতপা অধিকারী, ভাইঝি তিয়ান, ছোটভাই সৌমেন্দু অধিকারী এবং তার স্ত্রী। ছিলেন শুভেন্দুর বড়দার পুত্র দেবদীপ অধিকারী। সকলেই শুক্রবার কাঁথি থেকে কলকাতায় চলে এসেছিলেন। শনিবার শুভেন্দুর শপথগ্রহণের পরে আবার ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ ফেরেন শিশির। মুখ্যমন্ত্রীর গর্বিত পিতা শিশির বলেন, ‘‘কী বলি। আজ তো আমাদের আনন্দের দিন। আমি জানি, ও নিজের কর্তব্য পালন করবে। মানুষের জন্য যথাসাধ্য কাজ করবে।’’
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অভিভাবক এখন সাধারণ মানুষ। আমি শুধু এ বাড়ির (শান্তিকুঞ্জ) কর্তা। সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’’ তবে প্রবীণ রাজনীতিক মনে করেন, ২০২১ সালেই শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু রাজ্যব্যাপী অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘আরও আগে ও মুখ্যমন্ত্রী হলে পশ্চিমবঙ্গের ভাল হত। কিন্তু ২০২১ সালে জালিয়াতি করে ভোট পেয়েছে ওরা। চুরি হয়েছে বলে আমি মনে করি। নইলে ২০২১ সালেই রাজ্যে পালাবদল হয়ে যেত।’’
অন্য দিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শনিবার বিকেলে সমাজমাধ্যমে প্রথম পোস্ট করেছেন শুভেন্দু। তিনি লেখেন, ‘‘প্রণাম পশ্চিমবঙ্গ! আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তাঁর চরণে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। তাঁর ভাবনা, আদর্শ চিরকাল আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।’’ শুভেন্দু এ-ও লেখেন, রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে। রাজ্যে সুশাসন, নিরাপত্তা এবং সার্বিক উন্নয়নের সঙ্কল্প গ্রহণ করলেন। তিনি লেখেন, “সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এই সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাকে সেবক হিসাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।’’