—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কেমন হল প্রথম দফার ভোট? কে, কাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল, তার আগাম অনুমানভিত্তিক হিসাব কষা শুরু হয়েছে সব তরফে। ফল নিয়ে বিভিন্ন রকম দাবি করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, দাবি করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় তৃণমূল কেমন ফল করে, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে দল। কারণ, এই জেলাতেই গত বিধানসভায় শুভেন্দুর কাছে হারতে হয়েছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ বার তাই ভোটের ফলের আগাম আভাস পেতে পুরসভা ও অঞ্চল ভিত্তিক সম্ভাব্য ফলের 'রিপোর্ট' সংগ্রহ করেছে শাসকদল।
এ ব্যাপারে তৃণমূলের সহায়ক ভোট কুশলী সংস্থার সদস্যেরাও গোপনে সাহায্য করেছেন বলে দল সূত্রের খবর। যদিও প্রকাশ্যে তৃণমূল তা স্বীকার করেনি। তৃণমূলের এক ব্লক সভাপতি জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, ব্লকে কত শতাংশ ভোট পড়েছে, অঞ্চল ভিত্তিক সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে ও বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থীর জেতার কতটা সম্ভবনা রয়েছে দলের তরফে এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজিত রায়ের কথায়,"বিধানসভা এলাকার মধ্যে পুরসভা ও ব্লক এলাকায় ভোটদানের হার এবং পুরসভা ও অঞ্চল ভিত্তিক সম্ভাব্য ফলাফলের বিষয়ে দলীয়ভাবে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।’’
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি বিধানসভাতেই ভোট গ্রহণ হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। এসআইআর আবহে এ বার জেলায় ভোটদানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জেলায় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। এ বার ভোটদান হয়েছে ৯২.৭৫ শতাংশ। ২০২১ সালে এই জেলায় ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৯ টিতে তৃণমূল এবং সাতটিতে বিজেপি জিতেছিল। তবে সামগ্রিক ভাবে ভোট প্রাপ্তির হারে জেলায় অল্প ব্যবধানে এগিয়েছিল বিজেপি। গত ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জেলার তমলুক ও কাঁথি, দু'টি কেন্দ্রেই জিতেছিল বিজেপি।
এ বার বিধানসভার নির্বাচনে জেলার ১৬ টি কেন্দ্রের ভোট মিটতেই প্রতিটি বিধানসভা এলাকার পাশাপাশি ব্লক, পুরসভা, অঞ্চল ভিত্তিক সম্ভাব্য ফলের বিষয়ে ব্লক সভাপতিদের কাছে খোঁজখবর নিচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব।দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা নন্দীগ্রাম-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ব্লক ও পুরসভা এলাকায় ভোটদানের হার কত তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। ব্লক, অঞ্চল, পুরসভা এলাকায় সম্ভাব্য ফলাফল ও বিধানসভায় জেতার সম্ভবনা রয়েছে কিনা, জানতে চাওয়া হচ্ছে দলের ব্লক ও শহর সভাপতিদের কাছে । একেবারে নিচুতলা থেকে বিধানসভা এলাকার সম্ভাব্য ফলাফলের আভাস পেতে চাইছে তৃণমূলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব।
জেলার বাকি ১১ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে এক বা একাধিক ব্লক সহ পঞ্চায়েত এলাকা। পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করে জয়-পরাজয়ের হিসাব কষা হচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনে এই জেলায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা পবিত্র কর।এ ছাড়া ময়না, হলদিয়া, খেজুরি, ভগবানপুর, উত্তর-কাঁথি, দক্ষিণ-কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। এ বার ওইসব বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভের লক্ষ্যে তৃণমূল প্রার্থী বদল করেছে। সাংগঠনিক রদবদলও হয়েছে।
তমলুক বিধানসভায় গতবার অল্প ব্যবধানে ( ৭৯৩ ভোট ) জয়লাভ করা প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র , পূর্ব-পাঁশকুড়া বিধানসভায় বিদায়ী মৎস্য মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী ও পাঁশকুড়া-পশ্চিমে নন্দীগ্রামের 'শহিদ মাতা' ফিরোজা বিবিকে এ বার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। নতুন মুখ আনা হয়েছিল। এই সব কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন কিনা, সেটা জানাও দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় সূত্রের, জেলার ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশে প্রার্থী বদল করে দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তার ফল দল পেল কিনা, সেটা জানা তৃণমূলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এরই পাশাপাশি এ বার ভোট দানের হার বৃদ্ধির ফলে তৃণমূলের ভোট বাড়ল কিনা, সেটা জানতেও আগ্রহী দলীয় নেতৃত্ব।