মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।
রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সব দফতর এবং জেলা প্রশাসনগুলিকে পদক্ষেপের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত নিয়োগ-প্রক্রিয়া বাধাহীন রাখতেও উপযুক্ত প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে নবান্ন। বৃহস্পতিবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে বলে দেওয়া হয়েছে, প্রকল্পের নজরদারিতে মৌখিক দাবির বদলে এ বার থেকে বাস্তব অগ্রগতি বিচার্য হবে। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের অধীনে আলাদা একটি পোর্টাল তৈরি হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
একই সঙ্গে নবান্নের নির্দেশ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর মানুষের দাবি এবং অভিযোগশুনতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নাম-ফোন নম্বর প্রকাশ করতে হবে প্রশাসনকে।
সরকার গড়া ইস্তক রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়াতে বাড়তি জোর দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাতে এত দিন ধরে চলা কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে ফেলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বালি, পাথর, খনিজ-সহ যে মাধ্যমগুলি থেকে রাজস্ব বাড়ানো যেতে পারে, সেগুলি পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। প্রায় একলক্ষ শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই কাজে যাতে লাল ফিতের ফাঁস বাধা না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অনেক ধরনের পরিষেবার ঘোষণা করেছে রাজ্য। তাতে মানুষের দাবি, অভিযোগ ইত্যাদি থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে জেলার কর্তাদের বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদেরনাম এবং ফোন নম্বরের প্রচার করতে হবে। সব জেলা এবং দফতরের উদ্দেশে নবান্নের বার্তা, প্রকল্প নিয়ে সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করতে হবে। তা মেনে বাস্তবায়ন হতে হবে। অতীতে পর্যালোচনাবৈঠকে মৌখিক দাবির উপরেই ভরসা করত প্রশাসন। এখন সুনির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে সব প্রকল্পের অগ্রগতির উপরে নজর রাখবে সরকারের সর্বোচ্চ মহল। প্রকল্পের বরাদ্দ ব্যবহারের উপরেও কড়া নজর থাকবে। বাজেটের ঘোষণা মতো কাজ করতে হবে।
এ দিন একাধিক দফতরকে আগামী দিনে কাজের পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানানো হয়েছে, পুজোর আগেই স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বদলের কাজ শেষ করতে হবে। সূত্রের দাবি, আবাসের বাড়ি তৈরির টাকার ব্যবস্থা ছাড়াও, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অনেক বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগের আগ্রহ খতিয়ে দেখতে হবে।