—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক বধূকে লজে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানায় ওই নিয়ে শোরগোল। তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতর।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত বিজেপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়।
অভিযুক্ত একটি লজের মালিক। সরকারি আবাস যোজনায় বাড়ির জন্য আবেদন করা এক মহিলাকে শুক্রবার দুপুরে ফোন করেন বিজেপি নেতা। জানিয়েছিলেন, নথিপত্র যাচাই করতে হবে। তিনি যেন লজে গিয়ে দেখা করেন।
ঘটনাক্রমে আধার কার্ডের ফটোকপি, ব্যাঙ্কের নথি ইত্যাদি নিয়ে বিজেপি নেতার লজে যান ওই বধূ। তাঁর অভিযোগ, ‘‘উনি (অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য) লজের দোতলার একটি ঘরে যেতে বলেছিলেন। সেখানে যেতেই লজের শাটার টেনে দেওয়া হয়।’’ ‘নির্যাতিতা’র দাবি, শাটার টেনে দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বিজেপি নেতা তাঁর মুখ চেপে ধরেন। তার পর টেনেহিঁচড়ে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে খুনের হুমকি দেন পঞ্চায়েত সদস্য। ধস্তাধস্তি করে কোনও রকমে অভিযুক্তের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে লজ থেকে পালিয়ে যান বধূ। ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কিত এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি ফরাক্কা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে মহিলা জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার সুবাদে অভিযুক্তকে ভরসা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর অসহায়তার সুযোগ নিয়ে নথিপত্র দেখানোর নাম করে তাঁর শ্লীলতাহানি করেন পঞ্চায়েত সদস্য। ধর্ষণের চেষ্টা করেন তাঁকে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে পঞ্চায়েত সদস্যকে। অন্য দিকে, অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এই অভিযোগ করা হয়েছে। ফাঁসানো হয়েছে পঞ্চায়েত সদস্যকে।