ফুরফুরায় হুমায়ুন কবীর। —নিজস্ব ছবি।
ব্রিগেডের সভার আগে হুগলির ফুরফুরা শরিফে হাজির তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। একে একে বেশ কয়েক জন পীরজাদার সঙ্গে দেখা করলেন। কিন্তু যাঁদের দলের সঙ্গে জোট করবেন বলে বার্তা দিয়েছেন, সেই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দেখা পেলেন না। তার পরেও জোট নিয়ে আশাবাদী সদ্যগঠিত জনতা উন্নয়ন দলের প্রতিষ্ঠাতা। অন্য দিকে, হুমায়ুনের জোটে আহ্বান প্রসঙ্গে নওশাদ জানালেন, আগে ‘সেকুলার’ (ধর্মনিরপেক্ষ) হতে হবে ওই দলকে। তার পর ভাবা যাবে।
শুক্রবার দুপুরে ফুরফুরা পৌঁছোন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন। সেখান থেকে তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করেন। একে একে সাফেরি সিদ্দিকি, ইব্রাহিম সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করেন। সৌজন্য বিনিময় হয় তাঁদের। কিন্তু নওশাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও, তা হয়নি। সূত্রের খবর, ওই সময়ে বাড়িতে ছিলেন না নওশাদ।
তবে পুরোপুরি নিরাশও হচ্ছেন না হুমায়ুন। তিনি জানান, সময় পেলে আবার ফুরফুরা যাবেন। প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে তৃণমূল তথা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রীকে তোপ দেগে বলেন, ‘‘মুসলিমদের এককাট্টা হতে দিয়ো না, বিভাজন করে রাখো। এটাই মমতার রাজনৈতিক অভিসন্ধি।’’ তার পর বলেন, ‘‘আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে সভা হবে। দশ লাখ লোক হবে। তার পর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হবে। বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে।’’
ফের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের জোট প্রসঙ্গে ফেরেন হুমায়ুন। তিনি জানান, সর্ব স্তরের মানুষের কাছে আবেদন করব। সিদ্ধান্ত যাঁর যাঁর। তবে বিজেপিকে হারাতে আর তৃণমূলকে তাড়াতে এক হয়ে লড়ার ডাক দিচ্ছেন।
অন্য দিকে, হুমায়ুনের ফুরফুরা সফর এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদের মন্তব্য, ‘‘অফিসিয়ালি কোনও চিঠি পাইনি। পেলে আলোচনা হতে পারে। আর ফুরফুরা শরিফে সবাই আসেন। এখানে আসতে কোনও বাধা নেই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কংগ্রেস-বামের সঙ্গে কথা চলছে (আইএসএফের) জোটের ব্যপারে। বিজেপি-তৃণমূলকে হারাতে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সঙ্গেই থাকবে আইএসএফ।’’
ওই কথা শুনে হুমায়ুন জানিয়েছেন, তিনি কোনও দলকে চিঠি দেবেন না। যা বলার ‘ওপেন’ (প্রকাশ্যে) বলবেন। তাঁর মন্তব্য, ‘‘পোষালে বসবে। কাউকে চিঠি দেওয়ার মতো দুর্বল জায়গায় হুমায়ুন কবীর নেই। আমি মেয়ের বিয়ে যখন দেব তখন কার্ড-চিঠি দেব। জোট না-হলে না-হবে। আমি কাউকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে জোট করার জন্য বলব না। আমার কোনও ‘ইগো’ নেই। কারও যদি ইচ্ছে হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করতে হবে ভাবেন, তা হলে যে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসতে পারি।’’
হুমায়ুনের ফুরফুরা সফর নিয়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কাশেম সিদ্দিকি বলেন, ‘‘উনি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, সে জায়গা এটা নয়। ফুরফুরার দরবার শরিফ একটি তীর্থক্ষেত্র। এখানে যে কেউ আসতে পারেন। যে কোনও দলের লোকও আসতে পারেন। কিন্তু উনি যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছেন, সেটা ভুল।’’