WB Assembly Elections 2026

ভোটের আগে ফিরছেন পরিযায়ীরা

ভোটাধিকার এ বার খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই অন্য বারের ভোটের তুলনায় এ বার বেশি সংখ্যায় পরিযায়ীরা ঘরে ফিরছেন। শুনানির সময়ও ডাক পেয়ে অনেকে ফিরেছিলেন।

সামসুদ্দিন বিশ্বাস
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পরিযায়ী শ্রমিকেরা বছরভর ভিন্ রাজ্যে থাকেন। কখনও দুটির কোনও একটি ইদে, পুজোর সময়, কখনও বা ভোটের সময় তাঁরা বাড়ি ফেরেন। তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ইদ বা পুজোয় বাড়িতে ফেরার জন্য পরিযায়ীদের মধ্যে যতটা উৎসাহ থাকে, ভোটে ততটা উৎসাহ থাকে না। তবে এ বারের ভোটে এসআইআর পরবর্তী প্রভাব পড়তে চলেছে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে। এখন ইদ বা পুজোর মরসুম না হলেও ঝাঁকে ঝাঁকে ভিন্ রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরছেন। সপ্তাহ খানেক থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে লালগোলামুখী ট্রেনেও পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এমনিতেই ভোটার তালিকা থেকে বহু ভোটারের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে যা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। ভোটাধিকার এ বার খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই অন্য বারের ভোটের তুলনায় এ বার বেশি সংখ্যায় পরিযায়ীরা ঘরে ফিরছেন। শুনানির সময়ও ডাক পেয়ে অনেকে ফিরেছিলেন।

পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্যের সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, ‘‘এ বারের ভোট আর পাঁচটি ভোটের মতো নয়। বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই ইদুল ফিতরে বাড়ি ফিরেছিলেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘এসআইআরের জেরে তাঁদের অনেকেই বাড়িতে থেকে গিয়েছেন। তাঁরা ভোট দিয়ে ভিন্ রাজ্যে যেতে পারেন। আবার ভিন রাজ্যে যে সব পরিযায়ী শ্রমিকেরা রয়েছেন, তাঁরা ভোট দিতে ঘরে ফিরছেন। এ বারে পরিযায়ীদের ভোট দিতে আসার সংখ্যা বেশি।’’

বিহারের বিধানসভা ভোটেও পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন্ রাজ্য থেকে দলে দলে ভোট দিতে বাড়ি ফিরতে দেখা গিয়েছিল। এ বারে বিহারের পরিযায়ীদের ঘরে ফেরার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলার ভোটেও।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পরিযায়ীদের ভোট দিতে ঘরে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছেন। ঘরে ফিরতে রাজনৈতিক দলগুলি নানা ভাবে সাহায্যও করছে। লালগোলার ফরিদ শেখ বলছেন, ‘‘বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ বারের ভোটদান গুরুত্বপূর্ণ। ভোট না দিলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেয়, তাই আমার মতো বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভোট দিতে ঘরে ফিরছেন।’’

বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলছেন, ‘‘তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার বছরভর পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকে। এ বারেও পরিযায়ী শ্রমিকেরা যাতে ভোট দিতে ঘরে ফেরেন সেই আহ্বান জানিয়েছি। তাঁরা ঘরে ফিরছেন।’’

সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু অনুমোদিত পরিযায়ী শ্রমিকদের সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘‘এ রাজ্যে কাজ নেই। তাই পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন্ রাজ্যে কাজে যেতে হয়। এ রাজ্যে কাজ পেতে রাজ্য সরকারের বদল দরকার। আর রাজ্য সরকারের বদল করতে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরছেন।’’

আরও পড়ুন