— প্রতীকী চিত্র।
এতদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী বা রবীন্দ্র সঙ্গীতের কর্মশালা, আঁকা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিলতথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। এ বার সেই পরিসর বাড়িয়ে সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস (এগজ়িকিউটিভ) আধিকারিকদের জন্মদিনেও সরকারি তরফে পাঠানো হচ্ছে শুভেচ্ছাবার্তা ও পুষ্পস্তবক। এই নতুন উদ্যোগ ঘিরে জেলায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের জন্মদিনের তালিকা তৈরি করে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে পুষ্পস্তবক। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা। সরকারি উদ্যোগে ব্যক্তিগত জন্মদিন উদ্যাপনের এই নতুন প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অনেকেই বলছেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মূল কাজ রাজ্যের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মনীষীদের স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন করা। সেখানে সরকারি অর্থ ও পরিকাঠামো ব্যবহার করে আমলা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত জন্মদিনে শুভেচ্ছা পাঠানো মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। প্রবীণ শিক্ষক সুব্রত কুণ্ডু বলেন, “রবীন্দ্র-নজরুলের মতো মনীষীদের স্মরণ আর সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্মদিন উদ্যাপন— এই দুইকে এক পাল্লায় মাপা যায় না।”
বিষয়টি নিয়ে কল্যাণীর সিপিএম নেতা সবুজ দাস বলেন, “দলীয় স্বার্থে, দলীয় কর্মসূচিতে সরকারি অর্থ ব্যয়, সরকারি দফতরকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এটা দেশের সংবিধান বিরোধী। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি সরকারের পার্থক্য নেই।”
পাল্টা বিজেপি নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সোমনাথ কর বলেন, “বাংলার সনাতনী সংস্কৃতি রাজ্য সরকারখুব ভাল করেই জানে। সিপিএমের কাছ থেকে অন্তত অপসংস্কৃতি শিখতে হবে না। চিন্তার কারণ নেই রাজ্যের একমাত্র সিপিএম বিধায়ককেও তাঁর জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হবে।” যদিও প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশ জানান, শুভেচ্ছা জানানো নিছক সৌজন্যমূলক বিষয়, এরমধ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য খোঁজা ঠিক নয়।
নদিয়া জেলার ভারপ্রাপ্ত তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক গোপাল সাহা বলেন, “সরকারি যেমন নির্দেশ রয়েছে, আমরা সেই মতো পুষ্পস্তবক ও মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মদিনে পাঠাচ্ছি।”