Crisis of LPG

গ্যাসের আকাল,হেঁশেলে ফের উনুন

বলদেব জিউ মন্দিরের অন্যতম সেবিকা মিঠু গোস্বামী জানিয়েছেন যুদ্ধের আবহাওয়া গ্যাসের দাম বেড়েছে কিন্তু তাতেও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মিলছে না।

দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় 
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৬
গ্যাসের বদলে উনুনে রান্না। নবদ্বীপে।

গ্যাসের বদলে উনুনে রান্না। নবদ্বীপে। নিজস্ব চিত্র ।

পাথরে মোড়া ঝাঁ চকচকে রান্নাঘর। এক কোণে সগৌরবে বিরাজমান গ্যাস সিলিন্ডার। তথাপি একেবারে সাবেক প্রথা মেনে ঘুঁটে কয়লা দিয়ে তোলা উনুনের আঁচে রান্না হচ্ছে। বুধবার সকালে এমনই দৃশ্য দেখা গেল নবদ্বীপের বলদেব মন্দিরের পাকশালায়। গৃহকর্ত্রী জানান নিরুপায় হয়েই তাঁরা উনুনে ফিরেছেন। মজুত করা হয়েছে ঘুঁটে এবং কয়লাও।

গ্যাসের চূড়ান্ত সঙ্কট কালে এই ছবি কোনও বিছিন্ন ঘটনা নয়। বাঙালির রান্নাঘরে ফের জায়গা করে নিচ্ছে ঘুঁটে কয়লার উনুন। বিশেষ করে রোজ যেখানে প্রতিদিন একাধিক পাত পড়ে সেই সব ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে উনুন ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে। স্কুলের মিডডে মিল বা নবদ্বীপ-মায়াপুরের মঠমন্দির, যেখানে রোজ অনেকে খাওয়া দাওয়া করেন। এমনিতে নবদ্বীপের কিছু মন্দিরে এখনও কাঠে রান্না হয়। অপর একটি অংশের মন্দিরে গ্যাসের ব্যবহার চালু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু বর্তমান সঙ্কটে তাঁরা ফিরেছেন ঘুঁটে-কয়লার ফেলে আসা অভ্যাসে।

বলদেব জিউ মন্দিরের অন্যতম সেবিকা মিঠু গোস্বামী জানিয়েছেন যুদ্ধের আবহাওয়া গ্যাসের দাম বেড়েছে কিন্তু তাতেও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মিলছে না। অথচ প্রতিদিন মন্দিরে দেবতার ভোগের পাশাপাশি বহু মানুষের রান্না হয়। তিনি বলেন “ মন্দিরে সেবকের সংখ্যা ১৮ জন। তাঁদের সকালের জলখাবার এবং দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়াও গড়ে প্রতিদিন ভক্ত-শিষ্য মিলিয়ে কমপক্ষে ৫০-৬০ জনের প্রসাদের আয়োজন করতেই হয়। এই অবস্থায় উনুন ধরানো ছাড়া উপায় নেই। তাই আবার উনুন জ্বলছে রান্নাঘরে।” মন্দির কর্তৃপক্ষ উনুনের মাপের কড়াই এবং অনান্য বাসনপত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই সুযোগে ফের বাজারে অল্প অল্প করে ফিরেছে উনুন, ঘুঁটে, কয়লা। কেউ কেউ বাড়িতে কাঠের গুঁড়ো এবং কয়লার গুঁড়ো মিশিয়ে গুল দেওয়াও শুরু করেছেন। শহর লাগোয়া এলাকায় অনেকদিন পরে ঘুঁটের খোঁজ পড়ছে। রাতারাতি বেড়েছে ঘুঁটের দামও। গ্যাস সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে যে ঘুঁটের দাম ছিল প্রতি একশ ১৪ টাকা। এখন তা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাতে গোনা ঘুঁটে বিক্রেতার একজন মহাদেব ঘোষ বলেন “ আসলে এতদিন তো খুবই অল্প ঘুঁটের দরকার হত, তাই আমরা যে টুকু ঘুঁটে দিতাম তাতেই হয়ে যেত। দিন দশেকের মধ্যে যে ভাবে ঘুঁটের চাহিদা বাড়ছে তাতে তো দিয়ে উঠতে পারছি না। তাই দাম বেড়ে যাচ্ছে।”

এক সময়ে অর্থকরী হলেও এখন ঘুঁটে থেকে আর উপার্জন হয় না। তাই চাহিদা বাড়লেও কতটা পাওয়া যাবে, প্রশ্ন সেটাই। ইতিমধ্যে আয়তনে ছোট হতে শুরু করেছে ঘুঁটে। কয়লার খোঁজও শুরু হয়েছে। কয়লা ব্যবসায়ী সুনীল দেবনাথ জানিয়েছেন বাড়ির উনুন ধরানোর এক মণ (৪০ কেজি) কয়লার দাম এখন প্রায় ৬৫০ টাকা। একটু ভালো মানের ‘হার্ড কোক’ কয়লার দাম ৭৫০-৮০০ টাকা। ঘুঁটে-কয়লায় রান্না করতে খরচ খুব একটা কম হবে না।

আরও পড়ুন