নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। — ফাইল চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হল নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘বিতর্কিত’ সভার তিন আয়োজককে। ধৃতদের নাম গোলাম মোস্তাফা, মোহাম্মদ আমিনুক হক এবং আনিসুর রহমান। সোমবার রাতেই দুই পৃথক অভিযানে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশ।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং শক্তিপুরে সভা করেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র বিধায়ক হুমায়ুন। সেখানে বক্তৃতার সময়ে তাঁর কিছু মন্তব্য উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার জোড়া এফআইআর-ও রুজু হয়।
হুমায়ুনের মন্তব্য বিতর্কের আঁচ পড়ে বিধানসভায় অধিবেশনেও। সোমবার বিধানসভায় বক্তৃতার সময়ে ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পুলিশি ‘অ্যাকশনের’ হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। হুমায়ুনকে নিশানা করে তিনি বলেন, “যারা ওঁকে ডেকেছিল, তাদের আগে তুলব, তার পর আপনার কাছে যাব। যা করার করব, আমি আশ্বস্ত করছি। ধরে রাখুন এটা ওঁর শেষ বক্তব্য। এ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এনাফ ইজ় এনাফ (যথেষ্ট হয়েছে)। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।’’ হুমায়ুনকে সংযত হওয়ার জন্যও বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ বার তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রেজিনগর থানার দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন গোলাম এবং আমিনুল। গোলাম এজেইউপির কাশীপুর ২ অঞ্চলের সভাপতি। আনিসুর ধরা পড়েছেন শক্তিপুর থানার পুলিশের হাতে। তিনি এজেইউপির বেলডাঙা ২ ব্লকের আহ্বায়ক।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত আমিনুলের বাড়ি রেজিনগরের লোকনাথপুর গ্রামে। অন্য দিকে ‘মূল উদ্যোক্তা’ গোলাম কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মূলত দলীয় সভার আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়েছিলেন। আর সেই সভাতেই বিধায়ক উসকানিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।
রেজিনগরের সভায় হুমায়ুন কী মন্তব্য করেছিলেন, তা সোমবার বিধানসভায় পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় হুমায়ুন কবীর যে বক্তৃতা করেছেন, তা পড়ে শোনাচ্ছি। ২৬ জুন বলেছেন। পার্টির মিটিং করেছেন রেজিনগরে। সেখানে তিনি বলছেন, ‘এই যে অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেড়াচ্ছেন! তা আমি শুভেন্দুকে বলেছি, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে ভাল কথা! মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা কম করবেন। আমি যে দিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, এমন স্যাঁটা ভাঙা মার শুরু করব, যে ময়দানে আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। বহরমপুরের সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০-৪৮০০ জনের বেশি ধরে না। লাফিয়ে লাফিয়ে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব, স্যাঁটাভাঙা মারব...।’’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, তা করার ক্ষমতা তাঁকে কেউ দেয়নি।
প্রসঙ্গত, ‘স্যাঁটা’ শব্দটির অর্থ অঞ্চলভেদে পৃথক। ভাষাতত্ত্ববিদ সত্রাজিৎ গোস্বামী বলেছেন, ‘‘পুরুলিয়ায় শব্দটির অর্থ যৌনাঙ্গ। বীরভূম অঞ্চলে এটি শিরদাঁড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আবার বাংলাদেশের কুষ্ঠিয়া, পাবনার গ্রাম্যভাষায় এটি ধিক্কার বা ঘৃণার্থে ব্যবহৃত হয়।’’
উল্লেখ্য, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরে মুখ খুলেছিলেন হুমায়ুনও। এজেইউপি বিধায়কের দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। হুমায়ুনের কথায়, “যাঁরা নবাগত বিজেপি, ৪ মে-র পরে যাঁরা বিজেপি হয়েছেন, তাঁরা যে ভাবে এলাকায় অশান্তি অত্যাচার করেছেন, তার বিরুদ্ধে বলেছি। তাতে যদি আমাকে গ্রেফতার করা হয়, হবে। আমি তো এই লোকগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন দল তৈরি করেছি। জিতেছি।’’