— প্রতীকী চিত্র।
শমসেরগঞ্জের তারাপুর হাসপাতাল সংলগ্ন বাগানে উদ্ধার হয়েছিল মহিলার রক্তাক্ত দেহ। পাশে পড়েছিল জখম শিশু। ওই ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত প্রেমিক ইদ্রিস আলি ওরফে মিঠুন। তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ওই বধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সে কারণে পেশায় রাজমিস্ত্রি মিঠুন তাঁকে খুনের ছক কষেছিলেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতেই শমসেরগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের পলাতক স্ত্রীর খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মিঠুন আদতে তারাপুর কলোনির বাসিন্দা। দীর্ঘ এক দশক ধরে সাগরদিঘির চাঁদপাড়ায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সেখানে থাকাকালীনই স্থানীয় ওই বধূর সঙ্গে তাঁর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। মৃত মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে ভিন্রাজ্যে থাকেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি ওই বধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের উদ্দেশ্যেই সম্ভবত মাসখানেক আগে সন্তান-সহ ওই মহিলাকে তারাপুরে একটি ভাড়াবাড়িতে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত।
তদন্তকারীদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পনা মাফিক ওই বাগানে বধূকে ডেকে পাঠান মিঠুন। সেখানেই হাঁসুয়া দিয়ে নৃশংস ভাবে তাঁকে কোপানো হয়। মায়ের পাশে থাকা তিন বছরের শিশুপুত্রকেও রেয়াত করেননি অভিযুক্ত। সেও জখম হয়। ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে পালান মিঠুন। ধৃতকে জেরা করে পুলিশের অনুমান, এই খুনের নেপথ্যে তাঁর স্ত্রীরও ভূমিকা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন মিঠুনের স্ত্রীও। তাঁর খোঁজ চলছে।
শমসেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে খুনের পুনর্নির্মাণ ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’