Shoot Out

বাড়ির দেওয়ালে বল লাগায় শিশুদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি শিক্ষকের! গ্রেফতার এক, আহত এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

বাণীপুর গ্রামে অভিযুক্ত শিক্ষক সমীরকুমার মণ্ডলের বাড়ির পাশেই একটি বড় মাঠ রয়েছে। সেখানে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও ১০ থেকে ১২ জন শিশু ক্রিকেট ও ফুটবল খেলছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫০
অভিযুক্ত শিক্ষক সমীরকুমার মণ্ডল।

অভিযুক্ত শিক্ষক সমীরকুমার মণ্ডল। — নিজস্ব চিত্র।

খেলার মাঠ থেকে বল এসে পড়েছিল বাড়ির দেওয়ালে। আর সেই ‘অপরাধে’ শিশুদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল এক প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার বাণীপুর এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে এক শিশু। আহত শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাণীপুর গ্রামে অভিযুক্ত শিক্ষক সমীরকুমার মণ্ডলের বাড়ির পাশেই একটি বড় মাঠ রয়েছে। সেখানে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও ১০ থেকে ১২ জন শিশু ক্রিকেট ও ফুটবল খেলছিল। খেলা চলাকালীন সমীরের বাড়ির দরজায় এবং দেওয়ালে কয়েকবার বল গিয়ে লাগে। অভিযোগ, এতেই মেজাজ হারান শিক্ষক। রাগের মাথায় তড়িঘড়ি বাড়ির ছাদে উঠে যান তিনি। এরপর সেখান থেকেই মাঠে থাকা শিশুদের লক্ষ্য করে নিজের বন্দুক থেকে পর পর পাঁচ থেকে ছ’রাউন্ড গুলি চালান সমীর।

আক্রান্ত এক শিশুর বন্ধু বলে, “আমরা খেলছিলাম। খেলাচলাকালীন কয়েকবার বল ওঁর বাড়ির দেওয়ালে লাগে। হঠাৎই দেখি ছাদ থেকে তিনি আমাদের দিকে গুলি ছুড়ছেন। কারও কানের পাশ দিয়ে, কারও মাথার উপর দিয়ে গুলি চলে যাচ্ছিল। ভয়ে আমরা প্রথমে এগোতে পারিনি। পরে দেখি একটা গুলি আমাদের এক বন্ধুর হাতে লেগেছে।” আহত শিশুটি যন্ত্রণায় মাঠে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকলে স্থানীয়েরা ছুটে আসেন। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষক সমীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ওমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। হামলায় একটি অত্যাধুনিক এয়ারগান ব্যবহার করা হয়েছে। বন্দুকটির বৈধ লাইসেন্স আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়েই কলকাতা থেকে এই এয়ারগানটি কেনা হয়েছিল।

থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন সমীর। তবে তাঁর দাবি, “আমি শূন্যে গুলি চালিয়েছিলাম, কাউকে লক্ষ্য করে নয়। কী ভাবে ওই বাচ্চার গায়ে গুলি লাগল, তা বুঝতে পারছি না।”

আহত শিশুর বাবার কথায়, “ছেলে রোজকার মতোই কালীমন্দিরের পাশের মাঠে খেলতে গিয়েছিল। একজন শিক্ষক হয়ে শিশুদের উপর এ ভাবে গুলি চালালেন কী করে? আমরা ওঁর কঠোর শাস্তি চাই।” পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
আরও পড়ুন