—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বিজেপির দিকে চলে যাওয়া ভোট বামেদের দিকে কতটা ফিরবে— ফল ঘোষণার আগে সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে আলিপুরদুয়ার জেলার তৃণমূল শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাম ভোটের বেশির ভাগ অংশ গেরুয়া শিবিরের দিকে চলে যাওয়ায় কার্যত এক দশক ধরে আলিপুরদুয়ার জেলায় একচেটিয়া ভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি।
তবে এ বারের নির্বাচনের পর রামের দিকে যাওয়া ভোটের অনেকটা তাদের দিকে ফিরছে বলে আশায় বামেরা। সে দিকে তাকিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বও। জেলার পাঁচটি আসনেই এ বার বামেরা প্রার্থী দেওয়ায় কিছুটা চিন্তায় বিজেপি নেতারা। গেরুয়া শিবিরের জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য সেই চিন্তা করতে নারাজ।
রাজ্যে পালা বদলের সময়েও আলিপুরদুয়ার জেলায় বামেদের কিছুটা দাপট ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে যা পুরোটাই বদলে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি অনুযায়ী, সেই সময় থেকেই বামেদের ভোট বিজেপির দিকে যেতে শুরু করে। যার ফলে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পায় বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হয়।
সিপিএমের দাবি, এ বারের নির্বাচন অন্যরকম হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ায়, জেলায় পাঁচটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে বামেরা। যেটা ইতিবাচক হিসাবেই ধরছেন আলিপুরদুয়ারের বাম নেতারা। বাম নেতাদের যে ইতিবাচক দিকে তাকিয়ে তৃণমূল শিবিরও। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘‘বিজেপিকে জেলার মানুষ এখন আর বিশ্বাস করেন না। তার উপরে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা যেহেতু পাঁচটা আসনেই প্রার্থী দিয়েছে, তাই ওঁদের দিকে কিছু ভোট যে ফিরবে, সেটাও বাস্তব। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, ২০২১ সালের পর থেকে যে কোনও নির্বাচনে বামেদের ভোট তৃণমূলের দিকেই বেশি করে আসছে। এই ভোটেও সেটাই হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত। তাতে আমাদেরজয় অবধারিত।”
আলিপুরদুয়ার জেলা সিপিএমের সম্পাদক তথা জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক কিশোর দাস বলেন, ‘‘এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, গোটা রাজ্যে লাভবান হবে বামেরা। বাকিদের নিয়ে আমাদের ভাবার অবকাশ নেই।”
অন্য দিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, “এই নির্বাচনে বামেদের হাতে এখনও থাকা যেটুকু ভোট রয়েছে, শুধু সেটুকুই নয়, তৃণমূলের ভোটও আমাদের দিকে আসবে। জেলার পাঁচটি আসনেই আমাদেরজয় নিশ্চিত।’’