দুর্ঘটনার কবলে পড়া সেই গাড়ি। —নিজস্ব চিত্র।
আলিপুরদুয়ারের শামুকতলার অন্তর্গত ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পুঁটিমারি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি এসইউভি গাড়ি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে সেটি। তার অভিঘাতে কয়েক টুকরো হয়ে যায় গাড়িটি। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে আরোহীদের দেহ। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গভীর রাতে বিকট আওয়াজ শুনে রাস্তায় ছুটে আসেন স্থানীয়েরা। দুর্ঘটনায় আরোহীদের পরিণতি দেখে তাঁরা শিউরে উঠেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে চার বন্ধু আলিপুরদুয়ার থেকে বারোবিশার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে বারোবিশা পৌঁছোন। সেখান থেকে ফেরার পথেই ঘটে দুর্ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে ছিলেন রাজাভাতখাওয়ার বাসিন্দা অভিজিৎ ঘোষ, বিবেকানন্দ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা পার্থিব ঘোষ, ভোলারডাবরীর বিনয় পালচৌধুরী এবং পশ্চিম জিৎপুরের দীপ দাস।
সোমবার রাত ১১টা নাগাদ তারা বারোবিশার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় রাত প্রায় ২টো নাগাদ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পুঁটিমারী এলাকায় রাস্তার পাশে গাছে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দ শুনে এলাকার লোকজন ছুটে আসেন। রাস্তার উপরে তিন যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। অভিজিৎ এবং দীপের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তড়িঘড়ি স্থানীয়েরা বিষয়টি পুলিকে জানায়। শামুকতলা রোড ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পার্থিব এবং চালক বিনয়কে গুরুতর আহত অবস্থায় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। চিকিৎসা চলাকালীন জেলা হাসপাতালে পার্থিবের মৃত্যু হয়। বিনয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে তড়িঘড়ি কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার উমেশ গণপত খণ্ডওয়ালে বলেন, ‘‘তিন জনের মৃত্যু হয়েছে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায়। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।’’