আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধৃত তৃণমূল নেতাকে। —নিজস্ব চিত্র।
আরও এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার মালদহে। এ বার পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য শামসুল হককে পাকড়াও করল পুলিশ। অভিযোগ, গত ২ এপ্রিল এসআইআর-বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিএসএফ ছাউনির কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশের দাবি, আইন হাতে তুলে নেওয়ায় আইনত পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-বিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছিল মালদহের মোথাবাড়ি, ইংরেজবাজার প্রভৃতি এলাকায়। ভোটের কয়েক দিন আগে পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর বিএসএফ ছাউনির কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা শামসুল। তাঁর ‘মদতে’ দীর্ঘ চার ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়েছিল। তার ফলে সমস্যায় পড়েন প্রচুর মানুষ।
ওই অবরোধ কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে মালদহ থানায় কুড়ি জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্ত নেমে অভিযুক্ত হিসাবে শামসুলকে চিহ্নিত করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার মালদহ জেলা আদালতে হাজির করানো হয়। এবং তাকে আজ জেলা আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘কেন গ্রেফতার করল এখনও তো কিছু বলেনি। আমি জানি না, ঠিক কেন আমাকে ধরা হল।’’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশের যৌথ বাহিনী। হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি।
অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড সীমান্তের মানিকচক থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার হয়েছেন এক যুবক। উদ্ধার হয়েছে দু’টি সেভেন এমএম পিস্তল, পাইপগান-সহ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র। উদ্ধার হয়েছে সাত রাউন্ড কার্তুজ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘটনায় মহম্মদ ফারুক নামে ২১ বছরের এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের বাড়ি মানিকচক থানার গোপালপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ বলেন, ‘‘কোথা থেকে এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র জমা করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি আনা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত সম্পর্কে জেলার কোথাও কোনও পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখছে পুলিশ।’’