দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে উত্তরবঙ্গে প্রচার বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। বুধবার আলিপুরদুয়ারের সোনাপুরে। ছবি: নারায়ণ দে
চা শ্রমিকদের ‘সম্মান’ প্রদানের আশ্বাস দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বুধবার নাগরাকাটার সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ দিন আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে সভা করেছেন নিতিন। মঙ্গলবারই আলিপুরদুয়ার-জলপাইগুড়ি-কোচবিহারে দলের সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে, চা শ্রমিকদের উন্নয়নের প্রশ্নে বিঁধেছিলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। নাগরাকাটার সভায় নিতিন বলেন, “এই রাজ্যের চা শ্রমিকেরা দুর্দশাগ্রস্ত। চা সুন্দরী প্রকল্পে তিন লক্ষ ঘর বানানোর টাকা দিয়ে মাত্র সাড়ে চার হাজার ঘর বানিয়েছে। বাকি টাকা গিয়েছে ভাইপোর পকেটে।” নিতিনের আশ্বাস, ‘‘আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় এসে চা শ্রমিকদের সম্মান প্রদান করব।’’রাজ্যের বিদায়ী আদিবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বুলু চিকবরাইকের কটাক্ষ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী সকলেই চা বাগানে এসে মিথ্যে আশ্বাস দিয়েছেন। ইনিও (নিতিন নবীন) দিলেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে নাগরাকাটার সভায় নিতিন বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের নামে মাদ্রাসা এবং বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের উন্নয়ন করেছেন।’’ এ দিন সন্ধ্যায় ময়নাগুড়ি শহরের মধ্যে রোড-শো করেছেন নিতিন। রাতে শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়িতে একটি অভিজাত হোটেলে উত্তরবঙ্গের দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার দলের সভাপতি, সাংসদ, প্রার্থীদের একাংশ, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রীরা ছিলেন।
এ দিকে, আলিপুরদুয়ারের সভায় নিতিনের একটি মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী আলিপুরদুয়ার জেলার নাম বদলে যাবে? কারণ জেলার সোনাপুরের সভায় ভাষণের শেষের দিকে পুরো আলিপুরদুয়ার নামটি উচ্চারণ করার সময় আটকে যান তিনি। পরে বলেন, ‘‘এই আলিপুরদুয়ারের বদলে নিশ্চিত ভাবে এমন একটা নাম হবে, যেখানে শুধু বিকাশ হবে।’’ যা নিয়ে সমালোচনা করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘‘বিজেপি ভয়ঙ্কর। ওরা দেশের ক্ষমতায় এসে কেবল নাম-ই বদলেছে। আর এ বার রাজ্যে ক্ষমতায় না-এসেই এক জেলার নাম বদলের কথা বলছে।’’