—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সামনেই ভোট, তার আগে শিলিগুড়িতে বাড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের আমদানি। গত কয়েক মাসে শিলিগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র বিহার ও অন্যান্য জায়গা থেকে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে খবর। ভোটের আগে এই আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার রুখতে কমিশনারেটের তরফে ইতিমধ্যেই থানাগুলিকে অভিযানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযান শুরু হতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারও শুরু হয়েছে।
সোমবার রাতে চম্পাসারির স্টেট গেস্ট হাউসের সামনে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক যুবককে গ্রেফতার করে প্রধাননগর থানার পুলিশ। ধৃত যুবক মহম্মদ ফিরোজ কালিম্পংয়ের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, জংশন এলাকার কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্রটি দিতে যাচ্ছিল সে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে ধরে। আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অনুমান, বিহার থেকেই ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে আসা হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে তা জংশনে হাতবদল হয়ে অন্যত্র চলে যেত।
কিছুদিন আগে মাটিগাড়া থানার পুলিশ পরিবহণ নগর এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক যুবককে ধরে। দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা ওই যুবকের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও মোড়বাজার এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ-সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি রাকেশ সিংহ জানান, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার রুখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বিধানসভা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে শিলিগুড়িতে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারের অভিযোগে অনেককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বিহারের মুঙ্গের থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি নিয়ে আসা হয়। এর পরে ৫০-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে কার্তুজও ৫-১০ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়ে থাকে। অপরাধমূলক কাজ ছাড়াও অনেক সময় এলাকায় ক্ষমতা দেখাতে এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকার পাশাপাশি দার্জিলিং জেলা পুলিশের এলাকাতেও আগ্নেয়াস্ত্র-সহ অপরাধীরা ধরা পড়তে শুরু করেছে।