আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাতে শামিল উত্তরবঙ্গের ন’টি শিক্ষা জেলার প্রায় দুই লক্ষ ৪১ হাজার পড়ুয়া। শেষ বেলাতেও অ্যাডমিট কার্ড মেলেনি এমন পড়ুয়াদের জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলিও দরকারি পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের তরফে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে পরীক্ষার দিনগুলিতে।
শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের মতো বিভিন্ন জেলায় পুলিশের হেল্প ডেস্ক থাকছে। শিলিগুড়িতে পুলিশ বাইক স্টোয়াড তৈরি রাখছে। শেষ মূহূর্তে কোনও পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হলে তারা সাহায্য করবে। বনাঞ্চল এবং লাগোয়া এলাকার গ্রামগুলি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য গাড়ির বন্দোবস্ত করেছে বন দফতর। জেলা পুলিশও বন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার উমেশ খণ্ডবহালে। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ডিএফও বিজয় বিকাশ বলেন , ‘‘বন্যপ্রাণী উপদ্রুত এলাকাগুলিতে বন দফতরের টহল রয়েছে। পড়ুয়াদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।’’ বিছাভাঙা বনগ্রামের বাসিন্দা সুনীল পাইক জানান, তাঁদের সরস্বতী বনবস্তি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেবে বন দফতর।
মালদহ জেলায় এর আগে নকল করা নিয়ে নানা ঘটনা সামনে এসেছে। তার মোকাবিলায় পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া রুখতে তৎপর প্রশাসন। এ বার জেলার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পরীক্ষার্থীদের ঢোকানো হবে। থাকছে পর্যাপ্ত নজর ক্যামেরা। মাধ্যমিক পরীক্ষার মালদহ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব গুপ্ত বলেন, ‘‘মালদহ জেলায় নির্বিঘ্নে যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষা হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’’
বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ এবং বেরনোর রাস্তায়, স্ট্রংরুমে নজর ক্যামেরার নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা কী-কী নিয়ে হলে যেতে পারবে তা নিয়েও নির্দেশ রয়েছে। পরীক্ষায় নজরদারির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যও থাকছে বিধিনিষেধ। মোবাইল বা বৈদ্যুতিন কোনও সামগ্রী পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে নির্দেশিকা রয়েছে। প্রতিটি ঘরে নজরদারিতে ন্যূনতম দু’জন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা দায়িত্বে থাকবেন।